জলপাইগুড়ি: রাজ্যজুড়ে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে শোরগোলের রেশ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মাটিতে। চিকিৎসকদের নামের পাশে ভুঁইফোড় ডিগ্রি আর জাল নথির রমরমা রুখতে এবার আসরে নামল ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদারের হাতে একটি বিস্ফোরক দাবিপত্র তুলে দেয় এই দুই চিকিৎসক সংগঠন।
রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে জাল নথি দিয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। সেই সূত্র ধরেই জলপাইগুড়ি জেলায় ভুয়ো চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য এবং নথির সত্যতা নিয়ে কড়া তদন্তের দাবি তুলেছে আইএমএ-র জলপাইগুড়ি শাখা। সংগঠনের সম্পাদক ডা. কমলেশ বিশ্বাসের দাবি, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে, যাঁরা প্রেসক্রিপশনের প্যাডে ভুঁইফোড় ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। মোটা টাকার বিনিময়ে এই বেআইনি কারবার চলছে বলে অভিযোগ তুলে সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি তথা জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সুশান্ত রায় সহ চার কর্তার দিকে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডা. সুশান্ত রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারও কাছে যদি পাকা তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তবে তাঁরা নির্দিষ্ট ফোরামে অভিযোগ জানাতে পারেন। অন্যদিকে, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রশাসন এক মুহূর্তও দেরি না করে কড়া আইনি পদক্ষেপ করবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার খেলা কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর সচেতন মহলের।

