অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: ছটপুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। কুলো, ডালা থেকে বাঁশের প্রদীপদানি, সব বাঁশজাত সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে বাজারে। তবে চাহিদা বাড়লেও তা বিক্রি করে লাভের পরিমাণটা থাকছে অল্পই। এমনকি পুঁজির টাকাও উঠছে না। ব্যবসায়ীরা জানালেন, বাঁশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেখানে একটি বাঁশের দাম গত বছর ছিল ২২০ টাকা, এবারে সেটা বেড়ে ৩০০ টাকারও বেশি হয়েছে। লাভলোকসান বাদ দিয়ে তাই কেউ কেউ পারিবারিক ব্যবসার খাতিরে এখনও বাঁশের জিনিস বিক্রি করছেন।
শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) বাঁশজাত সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন মিতালি দাস। মিতালি বললেন, ‘বাঁশজাত সামগ্রী বিক্রি করে বাড়তি অর্থ এবং পরিশ্রমের মূল্য আমরা পাই না।’ তাহলে বাঁশজাত সামগ্রী তৈরি করছেন কেন? বললেন, ‘ব্যাপারটা হল, আমরা চার পুরুষ ধরে বাঁশের সামগ্রী তৈরি করে আসছি। পারিবারিক ধারা বজায় রাখতেই আমাদের বাঁশজাত সামগ্রী বানাতে হচ্ছে।’
এদিন বাঁশের থেকে তৈরি একেকটা বড় ঝুড়ির দাম শুরু হয়েছে ৬০০ টাকা থেকে। ১২০০ টাকারও ঝুড়ি রয়েছে। মাঝারি মাপের ঝুড়ির দাম ছিল ২৫০ টাকা। এছাড়া কুলো বিক্রি হয়েছে ১০০-১৫০ টাকায়। ছোট ঝুড়ি ৫০-৭০ টাকা, দাগরা ২৫০ টাকা করে বিকোচ্ছে জলপাইগুড়িতে। শহর সংলগ্ন শোভারহাট, বাহাদুর, তালমা, দশদরগা, ফাটাপুকুর থেকে বাঁশ নিয়ে আসেন আদুরি দাস, স্বপ্না দাস, কানু দাস সহ জলপাইগুড়ি শহরের মিউনিসিপ্যাল রোডের শতাধিক শিল্পী। আদুরি বললেন, ‘একটি কুলোর দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। তবে এই টাকায় কুলো বিক্রি করে লাভ পাওয়া যায় না। মাঝারি মাপের ঝুড়ি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বাঁশের প্রদীপদানি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। তবে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেও পুঁজির টাকা উঠে আসছে না।’
শুভ বিশ্বাস আবার পসরা সাজিয়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে ওখানে বসেই বাঁশজাত সামগ্রী তৈরি করছেন। বললেন, ‘ক্রেতাদের অনেকেই আমাদের সমস্যা সম্পর্কে জানেন। তাঁরা দাম নিয়ে অত ঝামেলা করেন না। এর জন্য আমরা বিক্রেতা হিসাবে কৃতজ্ঞ।’
এদিন মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে ডালা কিনতে এসেছিলেন উদয় রাউত। বললেন, ‘ছটপুজো আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা পুজোর দিনে ডালা সাজিয়ে করলা নদীর পাড়ে যাব। জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের শিল্পীরা সুন্দর সুন্দর ডালা তৈরি করেন। তাই এই মার্কেটে এসেছি।’
