পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: ছয় বছরের নীচে শিশুদের দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া তো ছিলই। তবে এবার ছয় থেকে ১৬ বছর বয়সি অনাথ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্যও পালক বাবা-মা খোঁজার বিষয়ে তৎপর হল জেলা প্রশাসন। একদিনের শিশু থেকে শুরু করে ছয় বছরের মধ্যে শিশুদের দত্তক নেওয়ার (Youngster Adoption) ক্ষেত্রে নিঃসন্তান দম্পতিদের মধ্যে ঝোঁক লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এবার ছয় বছর থেকে ১৬ বছর বয়সের অনাথ কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি হোম কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, কিশোর-কিশোরীদের ১৮ বছরের পরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তখন তাঁদের হোমে রাখার অনুমতি নেই। সমস্যা মেটাতে প্রশাসন (District Administration) চাইছে ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাদের দত্তক নেওয়া হোক। যদিও দেখা যাচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি স্পেশালাইজড অ্যাডপশন এজেন্সি থেকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে ছয় থেকে ১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীদের প্রতি তেমন কেউ আগ্রহ দেখান না।
সমাজকল্যাণ দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, ছয় বছরের কম বয়সিদের সরাসরি দত্তক নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার বেশি বয়স হলে ওই নাবালকদের জন্য প্রথম দুবছর পালক বাবা-মা (ফস্টার পেরেন্টস) থাকতে হবে দত্তক নিতে ইচ্ছুকদের। এই দুবছরে পালক বাবা-মা ও ওই নাবালক ও নাবালিকা একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে তবেই দত্তক নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই দুবছর ওই নাবালক বা নাবালিকা ও পালক পরিবারের ওপর নজর রাখবে সমাজকল্যাণ দপ্তর। তার মধ্যে প্রথম ছয় মাস অত্যন্ত কড়া নজর থাকবে। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সুদীপ ভদ্র বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে দত্তক নেওয়ার জন্য দম্পতির বয়স ৫০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিঃসন্তান কিংবা কোনও কারণে সন্তান হারিয়েছেন এমন বাবা-মায়েরা অনেকসময় দত্তক নিতে চান। আমরা সেইসব দম্পতির সঙ্গে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দুই বছর সরকারি নিয়ম মেনে থাকার ব্যবস্থা করছি। ওই সময়ের মধ্যে দম্পতির সঙ্গে যদি ছেলে বা মেয়েটি মানিয়ে নিতে পারে তাহলেই সেই বাবা-মা তাকে আইনত দত্তক নিতে পারবেন।’
জেলায় সমাজকল্যাণ দপ্তরের কোরক হোম ছাড়াও বেসরকারি দুটি মেয়েদের হোম রয়েছে। তিনটি হোম মিলিয়ে ছয় থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৩০ জন কিশোর-কিশোরী রয়েছে। যাদের মধ্যে অনাথদের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন। সম্প্রতি ডুয়ার্সের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নিঃসন্তান দম্পতি জলপাইগুড়ির এক বেসরকারি হোম থেকে একটি ১৮ বছরের কম এক কিশোরীর দায়িত্ব নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) সরকারি কোরক হোমের সুপারিন্টেন্ডেন্ট গৌতম দাস জানিয়েছেন, তাঁদের হোমে ছয়জন অনাথ কিশোর রয়েছে। যদি তাদের মধ্যে কেউ পালক পিতামাতার কাছে গিয়ে থাকে, তবে হোমের তরফে প্রতি মাসে ওই দম্পতির বাড়ি গিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৬ বছর বয়সি ছেলেদের যদি পালক পিতামাতার কাছে দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ১৮ বছর হতে আরও দু’বছর বাকি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পালক বাবা-মা কে সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে বাবা-মায়ের সঙ্গে কিশোরদের সেই বোঝাপড়া পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হলে সেই দম্পতিকে দত্তক নেওয়ার কথা বলা হবে।
