আম্রুতের জল। জলপাইগুড়ি জেলার চার বড় শহর এখনও অপেক্ষায় কবে সেই জল পাবে। কোটি কোটি টাকার জলপ্রকল্পের কাজ থেকে জল পায়নি কোনও শহরই। আজ প্রথম কিস্তি।
সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: আম্রুত জলপ্রকল্পের (Amrut Water Undertaking) শেষপর্যায়ের কাজ শুরু হলেও এখনও প্রথম পর্যায়ে শেষ হওয়া কাজ থেকে পানীয় জল পাননি জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরের বাসিন্দারা। পুরসভা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শহরের মানুষ পানীয় জল পাবেন বলে দাবি করলেও তার যৌক্তিকতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ বাড়িতে জল পৌঁছানোর ট্রায়াল রানই শুরু করতে পারেনি পুরসভা।
সোমবার থেকে আম্রুত জলপ্রকল্পের শেষপর্যায়ের পাইপ পাতার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। জানা গিয়েছে, থানার পেছন থেকে শুরু করে ডিবিসি রোড হয়ে মাদ্রাসা মাঠ এবং ৩ নম্বর গুমটি পর্যন্ত মূল রাস্তার নীচে দিয়ে যাবে এই পাইপ। যার জন্য ইতিমধ্যে কোতোয়ালি থানার পাশের রাস্তা খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, জলের পাইপ পাতার কাজ করতে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে আর্থমুভারের আঘাতে মাটির নীচে থাকা হাইভোল্টেজের বিদ্যুতের মোটা কেবল ছিঁড়ে গিয়েছে। যার কারণে শহরের একাংশে মঙ্গলবার রাতে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করে পরিষেবা স্বাভাবিক করে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি।
আম্রুতের জল প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আম্রুত জলপ্রকল্পের পাইপ পাতার শেষপর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি মতোই চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শহরে আম্রুত জলপ্রকল্পের পানীয় জল পরিষেবা শহরবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দেব। প্রথম এক মাস সেই জল পান করা যাবে না।’
২০১৯ সালে আম্রুত জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয় জলপাইগুড়িতে। সেই সময় জানানো হয়েছিল, তিন বছরের মধ্যেই পুর এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে যাবে। কিন্তু তিন বছরের মাথায় বাড়িতে জল পৌঁছানো তো দূরের কথা, পাইপ পাতার অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে সেখানে প্রথমবারের মতো প্রতিশ্রুতিভঙ্গ হয়। বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন ইতিমধ্যে মাটির নীচে পাতার কাজ শেষ হয়েছে। শহরকে আটটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একটি করে ওভারহেড ট্যাংক তৈরি হয়েছে। তিস্তা সেতু সংলগ্ন বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় নদীর মাঝখান থেকে জল তোলার পরিকাঠামো এবং সুকান্তনগর এলাকার জল পরিশোধনাগারের পরিকাঠামোও তৈরি। কিন্তু জল পরিশোধনাগার থেকে আটটি জোনে থাকা ওভারহেড ট্যাংকে জল পাঠানোর জন্য পাইপ পাতার কাজ এখনও অনেক জায়গায় বাকি রয়েছে।
