উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে রাজ্য সরকার কি এবার শাঁখের করাতের মুখে? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বকেয়া না মেটানোয় এবার সরাসরি প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার (Contempt of Courtroom) নোটিশ পাঠালেন মামলাকারীরা। শুক্রবার এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (CS Nandini Chakraborty) এবং অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে। এই ঘটনা নবান্নের ওপর চাপ তো বাড়ালোই, সেই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসন বনাম বিচারব্যবস্থার সংঘাতের বাতাবরণকে আরও উস্কে দিল।
সময় ফুরিয়েছে, ধৈর্যও
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, দীর্ঘ আইনি টালবাহানা আর চলবে না। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সরকারি কোষাগার থেকে সেই অর্থ কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। মামলাকারীদের অভিযোগ, শীর্ষ আদালতের রায়কে কার্যত উপেক্ষা করছে রাজ্য প্রশাসন। আর সেই কারণেই আর কালক্ষেপ না করে সরাসরি দুই শীর্ষ আমলাকে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অজুহাত বনাম আইনি অধিকার
এই আইনি দড়ি টানাটানি নতুন নয়। গত বছরের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যকে চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছিল ২৭ জুন। তখন রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি (Abhishek Manu Singhvi) আদালতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ‘আর্থিক সঙ্কট’ (Monetary disaster)-এর কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একসঙ্গে ৫০ শতাংশ বা বিপুল অর্থ মেটানো রাজ্যের পক্ষে অসম্ভব।
রাজ্য সরকার বাড়তি ছয় মাস সময় চেয়েছিল। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কর্মচারীদের দয়ার দান নয়, এটি তাদের আইনি অধিকার (Authorized Proper)। তাই আর্থিক অভাবের অজুহাত দেখিয়ে অনির্দিষ্টকাল প্রাপ্য আটকে রাখা যায় না। আদালত আগের অবস্থানে অনড় থেকে ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ বহাল রাখে।
প্রশাসনিক গাফিলতি না কৌশল?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কেন উদাসীন রাজ্য? এটি কি নিছকই অর্থের অভাব, নাকি কোনো আইনি কৌশল? আদালতের নির্দেশে বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর রূপরেখা তৈরির জন্য কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক ২৫ শতাংশ না মেটানোয় গোটা প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নের মুখে।
মামলাকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, এই নোটিশ একটি সতর্কবার্তা। এরপরও ব্যবস্থা না নিলে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে হাজিরা দিতে হতে পারে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য মোটেই সুখকর হবে না। সব মিলিয়ে, ডিএ ইস্যুতে এখন ব্যাকফুটে রাজ্য, আর বল আদালতের কোর্টে।
