অমিয়কুমার রায়, বেলাকোবা: জলপাইগুড়ি জেলার (Jalpaiguri) কৃষকদের রাসায়নিক সার ছেড়ে জৈব চাষে (Natural Farming) উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিনয়কুমার পোদ্দার। পাশাপাশি তিনি প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কৃষকদের উৎসাহিত করেছেন।
জলপাইগুড়ি জেলার বেলাকোবার দশদরগা এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন ‘দীপাঞ্জলি অর্গানিক ফার্ম’। সেখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফল, চা এবং মাছ চাষ করা হচ্ছে।
বিনয়ের ওই খামারে বর্তমানে পেঁপে, পালং, নানা প্রজাতির শাক, পটল, কুমড়ো, মুলো, বেগুন, করলা সহ বিপুল পরিমাণ বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ‘কোফাম এনবিইউ’-এর সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তিতে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, লেবু, কুল, সুপারি ও নারকেলের মতো ফলের চাষ করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলায় প্রায় ৫০ একর জমিতে রাসায়নিকমুক্ত জৈব চা চাষ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কেবল নিজে চাষবাস করাই নয়, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের জৈব কৃষি পদ্ধতিতে হাতেকলমে প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন এই প্রাক্তন শিক্ষক। কীভাবে গোবর, গোমূত্র এবং কেঁচো ব্যবহার করে প্রাকৃতিক কীটনাশক ও জৈব সার তৈরি করা যায়, তা কৃষকদের শেখানো হয়। তাঁর প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ‘ভারতীয় কিষান সংঘ’ অনুমোদিত।
বিনয়ের কৃষি দর্শনের মূল ভিত্তি হল ‘গো-আঁধারি চাষ’। তাঁর মতে, ‘একটি গোরুর সাহায্যে প্রায় ১৫ বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় সব জৈব সার ও কীটনাশক তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে চাষের খরচ যেমন কমে, তেমনই রাসায়নিকমুক্ত ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।’
বহুজাতিক সংস্থাগুলোর রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও হাইব্রিড বীজের ওপর কৃষকদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করাই অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিনয়ের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি জেলার নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি বাছাই করা শিক্ষিত কৃষকদের জন্য ১৩ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র জলপাইগুড়ি জেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ জৈব জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর স্বপ্ন।
প্রাক্তন শিক্ষকের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক দীপককুমার সরকার বলেন, ‘বিনয় নিষ্ঠার সঙ্গে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করার পাশাপশি কৃষকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়।’

