জলপাইগুড়ি: চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের (PF) টাকা তছরুপ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তাল হয়ে উঠল জলপাইগুড়ি। চা বাগান কর্তৃপক্ষের বঞ্চনা এবং পিএফ দপ্তরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ডান-বাম সম্মিলিত চা শ্রমিক সংগঠনগুলির ‘জয়েন্ট ফোরাম’-এর ডাকে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) আঞ্চলিক পিএফ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পাশাপাশি, ১০ দফা দাবিতে পিএফ কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছে ফোরাম।
জয়েন্ট ফোরামের অভিযোগ, চা বাগানের পিএফের টাকা নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে চরম বঞ্চনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পিএফ দপ্তরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার সঙ্গে দপ্তরেরই একাংশের কর্মী জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। এই চক্রটি চা শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে তাঁদের পিএফের টাকা তুলে নিচ্ছে। এমনকি, বেঁচে থাকা শ্রমিকদের মৃত দেখিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টের টাকা তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এনেছেন শ্রমিক নেতারা।
এই সমস্ত দুর্নীতি ও বঞ্চনার প্রতিবাদে এদিন জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে হাজারখানেক শ্রমিক (Tea Employees) সমাজপাড়ায় জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তাঁরা পিএফ দপ্তরে এসে পৌঁছান এবং দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আন্দোলনের জেরে দপ্তর সংলগ্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোতোয়ালি থানা ও সদর ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
পরে জয়েন্ট ফোরামের ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল পিএফ কমিশনার পবন কুমার বনসলের সঙ্গে দেখা করে ১০ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন। শ্রমিকদের স্পষ্ট বার্তা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বঞ্চনা ও দুর্নীতির সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ও অনির্দিষ্টকালীন আন্দোলনে নামবে তাঁরা।
অন্যদিকে, পিএফ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের হয়রানি রোধে ইতিমধ্যেই অনলাইন পদ্ধতি চালুর মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত বাগান কর্তৃপক্ষ নিয়মমতো সময়ে পিএফের টাকা জমা দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া, দালাল চক্র বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

