Jalpaiguri | ‘এত হাতি কেন…’, ভয়ে রাত জাগছে গ্রামবাসী  

Jalpaiguri | ‘এত হাতি কেন…’, ভয়ে রাত জাগছে গ্রামবাসী  

শিক্ষা
Spread the love


জলপাইগুড়ি ব্যুরো: ধানে রং আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে হাতির হানাদারি। জঙ্গল লাগোয়া জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) সর্বত্রই বাড়ছে হাতির আনাগোনা। মঙ্গলবার এক রাতেই ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াল একাধিক হাতির দল। জঙ্গলে দলগুলিকে ফেরত পাঠাতে যেমন হিমসিম খেতে হয়েছে বনকর্মীদের, তেমনই রাত জেগেছেন গ্রামবাসীরা। প্রায় রাতেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। যে কারণে জমির ফসল রক্ষায় বিভিন্ন বনবস্তি ও গ্রামে টংঘর তৈরি করে চলছে রাতপাহারা। একই সময়ে একাধিক জায়গায় হাতি বের হওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে বক্তব্য বন দপ্তরের।

বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের ভগৎপুর চা বাগানে ২টি, মঙ্গলকাটা চা বাগানে ১৫টি ও উত্তর শালবাড়িতে প্রথম ধাপে ৪টি হাতি ঢোকে রাতে। বনকর্মীরা হাতিগুলিকে তাড়িয়ে দিলেও পরবর্তীতে ফের ৫টি হাতি ঢুকে পড়ে উত্তর শালবাড়িতে। এই দলটিকে তাড়াতে যখন বনকর্মীরা হিমসিম খাচ্ছেন, তখনই পাশের চানাডিপা ও ধূপগুড়ি নিরঞ্জনপাটে ৪টি ও ১টি হাতি ঢুকে যায়। রাতভরের চেষ্টায় হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। একদিনের ঘটনা নয়, প্রায়শই ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের পাশাপাশি গরুমারা ও লাটাগুড়ি জঙ্গল লাগোয়া বিচাভাঙ্গা, সরস্বতী, উত্তর ঝাড় মাটিয়ালি এলাকায় রাতের পাশাপাশি দিনেও হাতির দেখা মিলছে। গাছের উপর, কোথাও বন দপ্তরের তৈরি টংঘরে চলছে রাতপাহারা। সরস্বতী বনবস্তির পঞ্চায়েত সদস্য সুবল পাইক বলেন, ‘বেশ কিছু গ্রামে আগাম হাতির হামলা হচ্ছে। যা ভাবাই যায়নি।’ বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জ অফিসার হিমাদ্রি দেবনাথের বক্তব্য, ‘একাধিক জায়গায় কিছু সময়ের ব্যবধানে হাতির দল বিভিন্ন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। প্রতিটি দলকে জঙ্গলে ফেরানো হয়েছে।’ তবে ঠিক কী কারণে এত বড় সংখ্যায় হাতি বিভিন্ন ভাগে লোকালয় ঢুকছে, স্পষ্ট নয়। বন দপ্তর সূত্রে খবর মিলেছিল, বানারহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভুটান থেকে হাতি নেমে ডুয়ার্সের জঙ্গলে অবস্থান করছে। এই হাতিদের আচরণ অবশ্য আলাদা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছিলেন হস্তী বিশেষজ্ঞ পার্বতী বড়ুয়া।

হাতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিন্নাগুড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণের সামনে হাতি চলে আসায় তিনি মোটরবাইক ফেলে প্রাণে বাঁচেন। নিরঞ্জনপাটের বাসিন্দা শ্যামল রায়ের কথায়, ‘ধান পাকছে তাই খাবারের লোভে হাতির দল লোকালয়ে আসছে। ফলে অনেক কৃষকই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।’ জলপাইগুড়ির ডিএফও বিকাশ ভি বলছেন, ‘হাতি তাড়াতে লাগাতার বন দপ্তরের কর্মীদের নজরদারি চলছে। অনেক জায়গায় কুইক রেসপন্স টিমও তৈরি করা হয়েছে। নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামবাসীদের দাবি মেনে যাতে কিছু টংঘর তৈরি করা যায়, সেই চেষ্টাও চলছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *