Jalpaiguri | মিড-ডে মিলের ডিমেই রাজনৈতিক ‘থেরাপি’! মোহিতনগরে অন্যভাবে বিক্রির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: মিড-ডে মিল (Noon Meal) পড়ুয়াদের পাতে রোজ একটা করে ডিম দিয়ে উঠতে পারে না রাজ্য সরকার। অথচ সেই ডিম দিয়েই কি না যত্রতত্র চলছে রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা ‘ডিম থেরাপি’ (Egg Remedy)। বিষয়টা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। পুষ্টিকর এই খাদ্যের এমন অনভিপ্রেত অপব্যবহার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে তৎপর হল রাজ্য সরকার।

জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মোহিতনগরের ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট পোলট্রি ফার্ম বর্তমানে ডিম মজুত নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে। বাজারে পোলট্রির ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে সরকারি এই খামারে মাত্র ৪ টাকা পিস দরে ডিম বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ, সাধারণ ক্রেতা হিসাবে খামারে এসে ডিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিজেপির কর্মীরা। পরবর্তীতে আগের জমানায় ক্ষমতায় থাকা নেতা-নেত্রীদের লক্ষ্য করে সেই ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। তবে, রাজ্য সরকার চায় না, সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের বদলে এই ডিম রাজনৈতিক থেরাপির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হোক। তাই মোহিতনগর ফার্মের মজুত ডিম অন্যভাবে বিক্রির ব্যবস্থা করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর।

স্বাধীনতার পর তৈরি এই খামারে ‘রোড আইল্যান্ড রেড’ (দেশি মুরগির মতো দেখতে) প্রজাতির মুরগি পালন করা হয়। ফার্মের সহকারী অধিকর্তা প্রদীপকুমার সাহা জানান, সরকারের লক্ষ্য ছিল এখানে মুরগি পালন করে, ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তা বিনামূল্যে গরিব মানুষের মধ্যে বণ্টন করা। সেই ব্যবস্থা এখনও বহাল। কিন্তু প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ফলে ইনকিউবেটর মেশিনে বাচ্চা ফোটানো বন্ধ। অথচ প্রতিদিন ১৪০০ করে মাসে প্রায় ৪২ হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে। আগে বাচ্চা ফোটানোর পর উদ্বৃত্ত ১০-১৫ হাজার ডিম সাধারণের কাছে বিক্রি হত, এখন পুরোটাই বিক্রি করতে হচ্ছে।

নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার হিড়িক শুরু হওয়ায় অচেনা লোকজন এসে খামার থেকে ডিম নিয়ে যাচ্ছে। নিরঞ্জন রায় নামে এক বহিরাগত বলেন, ‘আমাকে কিছু নেতা বলেছেন। তাই খামার থেকে ৪ টাকা দরে ৫০০ ডিম কিনে নিয়ে গেলাম। কী করবেন বলতে পারব না।’ খামারের এই ডিমের ওজন ৪৫ গ্রাম, যা বাজারের ৬৫ গ্রামের ডিমের চেয়ে ছোট। তাই ব্যবসায়ীরা ৪ টাকার নীচে ডিম কিনতে চাইলেও, রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় তা সম্ভব হয়নি। মিড-ডে মিলেও সরবরাহের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে এই জট খোলে। অতিরিক্ত জেলা শাসক ও সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে সমস্যার সমাধান মিলেছে। প্রদীপকুমার সাহা জানিয়েছেন, মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সপ্তাহে কিছু ডিম বিক্রি হবে। তবে যতদিন না বাচ্চা ফোটানোর কাজ শুরু হয়, খামারের অধিকাংশ ডিম কিনে নেবে ওয়েস্টবেঙ্গল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *