Jaldapara Safari | সাফারিতে দ্বিগুণ খরচ! জলদাপাড়ায় দালালদের জালিয়াতির অভিযোগ

Jaldapara Safari | সাফারিতে দ্বিগুণ খরচ! জলদাপাড়ায় দালালদের জালিয়াতির অভিযোগ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: যা টিকিট, দিতে হচ্ছে তার দ্বিগুণ মূল্য। পর্যটনের ভরা মরশুমে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে কার সাফারির টিকিট পেতে দালালচক্রের হাতে পড়ছেন বেড়াতে আসা মানুষজন (Jaldapara Safari)। যেমন সিনেমা হলের বাইরে হিট ছবির টিকিট আকাশছোঁয়া দামে ব্ল্যাকে বিক্রি হয়, ঠিক তেমনই (Ticket value)। এদিকে অবৈধভাবে টিকিট কেটে নেওয়ায় ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অন্য পর্যটকরা টিকিট পাচ্ছেন না। নিয়মমাফিক, একটি সাফারির গাড়িতে ৬ জনের জন্য ১৭৫০ টাকা দিতে হয়। ট্রলি লাইনের জন্য দিতে হয় ১৮৫০ টাকা। বর্তমানে এই দালালরা টিকিটের পরিবর্তে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫০০-৪০০০ টাকা চাইছেন বলে অভিযোগ। গত ৫ অক্টোবর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর টিকিট বুকিংয়ের কাউন্টারটি নর্থ রেঞ্জ থেকে থানার কাছে যুব আবাসের সামনে কর্মতীর্থ ভবনের একটি ঘরে সরিয়ে আনা হয়েছে। এরপর থেকেই ওই কালোবাজারি মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মূলত দুইরকম কায়দায় চলছে কালোবাজারি। মাদারিহাটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দালালচক্রের সদস্যরা বুকিং কাউন্টার খুলতেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। টিকিট দেওয়ার পরিবর্তে তাঁরা পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা হাঁকছেন। এছাড়া কয়েকজন দালাল লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নামে এবং ভুয়ো কয়েকটি পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি দিয়ে টিকিট কেটে নিচ্ছেন। এরপর অন্য পর্যটকদের কাছে তা চড়া দামে বিকোচ্ছেন। এমনকি গাড়িতে উঠে তাঁরাও জঙ্গলের ভিতরে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। যদিও এভাবে কাটা টিকিটের রেট একটু কম। লাইনে যে দাঁড়াবে বন দপ্তর তাঁকেই টিকিট দিতে বাধ্য। কিন্তু নিয়মের ফাঁকে এভাবেই চলছে জালিয়াতি। এপ্রসঙ্গে জলদাপাড়া ইকো রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার মণীন্দ্র মহন্ত বললেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় লাইনে কে দাঁড়াচ্ছেন বোঝা যাচ্ছে না। তবে আমরা নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে মাদারিহাট থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ জানাব।’

এদিকে জলদাপাড়ার পর্যটন ব্যবসায়ী সঞ্জয় দাস জানালেন, এইসব ঘটনার জন্যই মাদারিহাট তথা জলদাপাড়ার মুখ পুড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী পর্যটকদের কথা ভেবে নানা চার্জ তুলে দেওয়ার নিদান দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ফায়দা তুলছে দালালচক্র। সঞ্জয়ের কথায়, ‘আমরা বন দপ্তরকে বহুবার আবেদন করেছি যাতে অনলাইনে টিকিট বুকিং চালু করা হয়। কিন্তু তা কেন করা হচ্ছে না, জানি না।’ অন্যদিকে জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট গাইড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কল্যাণ গোপও জানান, অবস্থা ভয়ংকর। যে পর্যটক টিকিটের জন্য ভোর রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তিনি টিকিট পাওয়ার আগেই টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলিতে এই চক্র আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এদিকে সঞ্জয় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন। কারণ সকাল সাড়ে আটটার কার সাফারির টিকিট দেওয়া হয় সেদিনই এক ঘণ্টা আগে। কিন্তু ভিড়ের কথা মাথায় রেখে কিংবা লজের দূরত্বের জন্য পর্যটকদের অনেক ভোরে টিকিট বুক করতে আসতে হয়। রাস্তাঘাটে যে কোনও মুহূর্তে হাতির হানার ভয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে পর্যটকদের কিছু হলে কে দায় নেবে, সেই আশঙ্কা থেকেই যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *