ইটাহার: ইটাহার (Itahar) চৌরাস্তা মোড়ে জাতীয় সড়কের ওপর ১৯ জুন থেকে কোনও বাস বা যাত্রীবাহী গাড়ি দাঁড়াবে না। এমনকি যাত্রী ওঠানামা করবে না। রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের তরফে এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই বার্তা পরিবহণকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বুধবার ইটাহার ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চৌরাস্তা মোড়ে জাতীয় সড়কের পরিবর্তে রায়গঞ্জ ও মালদামুখী সব বাস শুক্রবার থেকে চৌরাস্তা সংলগ্ন ইটাহার বাস টার্মিনাসে অথবা চৌরাস্তা মোড় থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে সরাইদিঘি বাসস্টপে দাঁড়াবে। এই দুই জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানামা করবে। কয়েকদিন আগে পরিবহণ দপ্তর, বাস মালিক সংগঠন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা মিলে একটি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে বাস দাঁড়ানোর বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত চৌরাস্তা মোড়ে যানজট ও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে বহু সাধারণ যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে চৌরাস্তা মোড়ে জাতীয় সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে।’ দূরপাল্লার কোনও সরকারি ও বেসরকারি বাস ইটাহার টার্মিনাসে প্রবেশ করে না। সেক্ষেত্রে ইটাহারের প্রাণকেন্দ্র অর্থাৎ চৌরাস্তা মোড় থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে সরাইদিঘি সংলগ্ন বাসস্টপে গিয়ে বাসে ওঠানামা করতে হবে যাত্রীদের। এর ফলে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হবে। ২০২১ সালে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে চৌরাস্তা মোড় এলাকায় ইটাহার বাস টার্মিনাস তৈরি হয়েছিল। প্রথম দিকে রায়গঞ্জ ও মালদাগামী প্রায় সব বাস টার্মিনাসে প্রবেশ করলেও পরের দিকে অধিকাংশ বাস আর টার্মিনাসে ঢুকত না। এতদিন সেই বাসগুলি চৌরাস্তা মোড়ে জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়াত এবং সেখান থেকে যাত্রীরা ওঠানামা করতেন। এর ফলে চৌরাস্তা মোড়ে নিত্যদিন যানজটের সমস্যা হত। পাশাপাশি যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। এবার থেকে সব রুটের বাসগুলিকে টার্মিনাসে প্রবেশ করতে হবে বলে বাস মালিক সংগঠনের তরফে পরিবহণকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

