উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও তীব্র হলো। শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে (Israel assault Iran) ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজরায়েল (Israel)। তেহরানের আকাশে পর পর বেশ কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা শহর। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে দ্রুত গোপন ডেরায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক হামলা ও বিস্ফোরণ:
শনিবার ভোরে যখন তেহরান ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। খামেনেইয়ের দপ্তরের খুব কাছেই অন্তত তিন থেকে চারটি বড় বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছে। হামলার পরপরই তেহরানজুড়ে বাজতে শুরু করে সতর্কতামূলক সাইরেন। নাগরিকদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ বাঙ্কার বা আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরান সরকার। পালটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে তেল আভিভেও।
কেন এই সংঘাত?
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ আমেরিকা ও ইজরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার হুঙ্কার দিচ্ছিলেন যে, ইউরেনিয়াম সঞ্চয় বন্ধ না করলে চরম ফল ভুগতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো রফাসূত্র মেলেনি। ইজরায়েলের দাবি, ইরান লোকচক্ষুর আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিচ্ছে।
ইজরায়েলের সাফাই:
হামলার পরপরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁদের দেশে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল ইরান। সেই হামলা রুখতে এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই এই ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
গত বছর জুনেও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথ হামলা চালিয়েছিল। শনিবারের এই ঘটনা সেই সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
