উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইসলামাবাদে (ISPP assault in Islamabad) শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করল জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স’ (ISPP)। গোষ্ঠীর নিজস্ব প্রোপাগান্ডা চ্যানেল ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’-র মাধ্যমে এই দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই আত্মঘাতী বোমারুর নাম ‘সাইফুল্লাহ আনসারি’ বলে জানানো হয়েছে। এই হামলার পর রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে (Islamabad Excessive Alert) জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
হামলার প্রেক্ষাপট ও দায় স্বীকার আইএসপিপি-র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের সদস্য সাইফুল্লাহ আনসারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, তাদের আদর্শিক বিরোধীদের লক্ষ্য করেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। যদিও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখনই সাইফুল্লাহ আনসারির পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে আত্মঘাতী ভেস্ট ব্যবহার এবং হামলার ধরনে ইসলামিক স্টেটের চিরাচরিত ছাপ পাওয়া গিয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
কে এই আইএসপিপি? ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথমবার আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে পৃথক শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স’ বা আইএসপিপি। এর আগে পাকিস্তানের জঙ্গি কার্যকলাপ দেখভাল করত আইএসকেপি (ইসলামিক স্টেট-খোরসান প্রভিন্স)। বিভাজনের পর আইএসকেপি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়ায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, আইএসপিপি পঞ্জাব, বালুচিস্তান এবং আজাদ কাশ্মীরের মতো এলাকায় নিজেদের জাল বিস্তার করে। এমনকি ইরানের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশেও তাদের সক্রিয়তার খবর পাওয়া গিয়েছে।
রক্তাক্ত অতীত ও বর্তমান উদ্বেগ আইএসপিপি-র ট্র্যাক রেকর্ড অত্যন্ত হিংসাত্মক। ২০২৪ সালে সিবি বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিরাপত্তা বাহিনীর বাসে হামলা—সবক্ষেত্রেই তারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে তাদের হামলায় ৩ সেনার মৃত্যু এবং ২০ জন আহত হয়েছিলেন। মূলত শিয়া হাজারা সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করেই তারা ক্রমাগত আঘাত হানছে।
ইসলামাবাদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এই হামলা পাকিস্তান সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আইএসপিপি এখন অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করছে, যা তাদের ট্র্যাক করা কঠিন করে তুলছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে এবং স্লিপার সেলগুলি ধ্বংস করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
