উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ রুখতে আরও কঠোর অবস্থান নিল আইপিএলের দুর্নীতি দমন ইউনিট (Anti-Corruption Unit)। এবার থেকে স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল এলাকায় সাধারণ মোবাইল ফোনের পাশাপাশি সব ধরনের আধুনিক স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমও বদলে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন ইউনিটের মতে, বর্তমান যুগের স্মার্ট ওয়াচ, স্মার্ট গগলস কিংবা স্মার্ট সানগ্লাসের মাধ্যমে মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে খুব সহজেই লাইভ ম্যাচ দেখা, মেসেজ আদান-প্রদান এবং অডিও-ভিডিও কল করা সম্ভব। ম্যাচের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই ডিভাইসগুলোকে ‘রেকর্ডিং এবং যোগাযোগের ডিভাইস’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের অত্যন্ত সুরক্ষিত অংশ হল প্লেয়ার অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস এরিয়া (PMOA)। এই নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শুধুমাত্র খেলোয়াড়, কোচ, আম্পায়ার এবং দুর্নীতি দমন শাখার কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি থাকে। খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নির্দিষ্ট জোনে কোনোভাবেই অনুমতি ছাড়া বাইরের কারও সাথে যোগাযোগ করা যাবে না।
শুধু মূল খেলোয়াড় বা কোচ নন, দলের সঙ্গে যুক্ত নেট বোলার, লজিস্টিক স্টাফ, থ্রোডাউন স্পেশালিস্ট এবং অন্যান্য অস্থায়ী কর্মীদেরও এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইপিএলের (IPL 2026) নিয়ম যে সবার জন্য সমান, তার প্রমাণ মিলেছে ২০২৬ সালের মরশুমেই। ডাগআউটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অপরাধে বিতর্কে জড়ান রাজস্থান রয়্যালসের (RR) ম্যানেজার রোমি ভিন্ডার। নিয়ম অনুযায়ী, টিম ম্যানেজাররা জরুরি প্রয়োজনে ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহার করতে পারলেও, ডাগআউটে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙায় বিসিসিআই (BCCI) তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
দুর্নীতি দমন ইউনিটের এক সূত্রের দাবি— “প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, তত নতুন নতুন উপায়ে লুকিয়ে যোগাযোগ করার সুযোগও বাড়ছে। তাই কোনো অঘটন ঘটার আগেই আমরা আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছি।”
