কোচবিহার: কোচবিহারের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইরেক্টরেট (এমইডি)-এর কাছে ঠিকাদারদের প্রায় ৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার জেরে থমকে রয়েছে হেরিটেজ তিন দিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ। টাকার অভাবে রাজমাতাদিঘি, সাগরদিঘির স্টেজ ঘাট এবং যমুনাদিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ প্রায় দু’মাস ধরে বন্ধ। অন্যদিকে, বৈরাগীদিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ হওয়ার বছর দুয়েক পেরিয়ে গিয়েছে। সৌন্দর্যায়ন শেষ হওয়ার পরেও এই কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার অভিজিৎ পাল এখনও পুরো টাকা পাননি। তিনি বলেন, ‘৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছি। এমইডি’র কাছে আমার বকেয়ার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি। টাকার জন্য ব্যাংক থেকে আমাকে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনও সুরাহা হয়নি।’ এই বিষয়ে এমইডি-এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অভিনন্দন দিন্দা বলেন, ‘ফান্ডের অভাবে কাজ আপাতত বন্ধ। রাজমাতাদিঘির ৭০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এখন ঠিকাদাররা তাঁদের প্রাপ্য টাকা দাবি করছেন। অর্থের অভাবে তাঁদের বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তাই তাঁরা কাজ বন্ধ রেখেছেন।’ বৈরাগীদিঘির বকেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি এজেন্সিদের আমরা ধাপে ধাপে টাকা দিই। কাজ শেষের দু’বছর পরেও অর্থের অভাবে এখনও বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ফান্ডে টাকা এলেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।’
গতবছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ শুরু হয়েছিল সাগরদিঘির উত্তরপ্রান্তে থাকা স্টেজ ঘাটের কাজ। এতদিনেও কাজ শেষ হয়নি। আদৌও কবে কাজ শেষ হবে তা নিয়েও শহরবাসী চিন্তিত। কাজ বন্ধ রাজমাতা এবং যমুনাদিঘিরও।
রাজমাতাদিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজের বরাত পেয়েছেন ঠিকাদার আমজাদ হোসেন। অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হওয়ার পরও আমজাদ কোনও টাকা পাননি। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে আমজাদ নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি। তিনি বলেন, ‘সৌন্দর্যায়নের ৭০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবার পরও কোনও টাকাই পাইনি। আমার প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আটকে আছে। টাকার অভাবে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। টাকার জন্য দপ্তরে বারবার বলেও কোনও লাভ হয়নি।’
কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে সাগরদিঘি। দিঘির চারপাশের ফুটপাথ সহ তিনদিকের ঘাটের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি দিঘির উত্তরে থাকা স্টেজ ঘাটটির কাজ। সাগরদিঘির কোর্টের সামনে অর্ধচন্দ্রাকৃতি এই স্টেজ ঘাটটি তৈরি হলে সেখানে করা যাবে ছোট অনুষ্ঠানও। এই স্টেজ ঘাটের দু’দিক থকে দুটি সিঁড়ি করার পরিকল্পনা রয়েছে এমইডি’র। দুটি সিঁড়ি নেমে যাবে দিঘির দিকে। সব কাজই থমকে টাকার অভাবে। এমইডি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, ‘ফান্ডের অভাবেই সমস্ত কাজ বন্ধ। আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
