উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, আবার অনেকে আলস্যবশত তা এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে এবং সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে সকালে জল খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই (Ingesting Water)। পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। তাই সকালে চোখ খুলেই পর্যাপ্ত জল খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ফিরে আসে, যা ‘ব্রেন ফগ’ বা মানসিক জড়তা কাটাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
কেন সকালে জল খাওয়া প্রয়োজন?
ঘুমন্ত অবস্থায় আমরা জল পান না করলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ কাজ— যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ নির্গমন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এই কাজগুলোর জন্য শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। ফলে সকালে ঘুম ভাঙলে শরীর ক্লান্ত ও শুষ্ক থাকে। সঠিক সময়ে জল পান না করলে মাথা ধরা বা আলস্য পিছু ছাড়তে চায় না।
সকালে জল পানের ৫টি জাদুকরী উপকারিতা:
কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্তি: অন্ত্রের চলন স্বাভাবিক করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায় এবং পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা বাড়ায়।
বিপাক হার বৃদ্ধি: সকালে জল খেলে বিপাকীয় হার (Metabolism) প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: সকালে জল খেলে অহেতুক খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
মানসিক সতেজতা: ঝিমুনি ভাব কাটিয়ে মনোযোগ বাড়াতে এবং মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম করতে জল অপরিহার্য।
ডিটক্সিফিকেশন: রাতে শরীরে জমা হওয়া বর্জ্য পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে জল সাহায্য করে। এতে কিডনি ও লিভার সতেজ থাকে।
পরিমাণ ও নিয়ম
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুম থেকে উঠে খুব ঠান্ডা বা খুব গরম জল না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা সামান্য উষ্ণ ১-২ গ্লাস জল খাওয়া সবচেয়ে ভালো। দিনের শুরুটা এক গ্লাস জল দিয়ে করে দেখুন, শরীর ও মন দুই-ই থাকবে চনমনে।
