Infiltration | মেডিকেল ভিসায় ভারতে প্রবেশ, মাস ঘুরতেই ভোটার তালিকায় নাম! দিনহাটায় ‘অনুপ্রবেশ’ বিতর্কে তৃণমূল নেত্রী

Infiltration | মেডিকেল ভিসায় ভারতে প্রবেশ, মাস ঘুরতেই ভোটার তালিকায় নাম! দিনহাটায় ‘অনুপ্রবেশ’ বিতর্কে তৃণমূল নেত্রী

ব্লগ/BLOG
Spread the love


অমৃতা দে, দিনহাটা: দিনহাটার ভোটার তালিকায় এক  বাংলাদেশি নাগরিকের নাম থাকার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি আবার দিনহাটা-২ ব্লকের বুড়িরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসন্তীরহাট অঞ্চল থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা কৃষ্ণা কাবেরী বর্মনের বাবা। অভিযোগ, কৃষ্ণা কাবেরীর বাবা নিতাইচন্দ্র বর্মন ও মা নিভারানি বর্মন বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও দিনহাটার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। এই অভিযোগের সূত্র ধরেই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর নিতাইচন্দ্র বর্মন ও তাঁর স্ত্রী নিভারানি বর্মন বাংলাদেশ থেকে মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছেন। সীমান্তে নথিপত্র জমা দেওয়ার সময় ভারতে কোথায় আসছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা বুড়িরহাটের বাসিন্দা দীপক বর্মনের ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেন। তাঁদের মেয়ে অর্থাৎ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামী দীপক বর্মন। নথিপত্রে এই ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

যাঁরা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের নাম রয়েছে দিনহাটা শহরের ৩০৫ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায়। ভোটার তালিকায় নিতাইয়ের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী নিভারানির নামও নথিভুক্ত রয়েছে। কীভাবে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম ভারতের ভোটার তালিকায় এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

ঘটনার পর নিতাই ও নিভারানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৩ সালের অনেক আগেই চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতেন। সেই সময় বুড়িরহাটের বাসিন্দা দীপক বর্মনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার দাবি, বিয়ের পর তাঁর স্বামী দীপকই তাঁর সমস্ত নথিপত্র জোগাড় করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে কার্যত তিনি যে বাংলাদেশি, তা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে বাবার নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

কৃষ্ণা কাবেরী বর্মনের স্বামী দীপক তৃণমূল কংগ্রেসের বাসন্তীরহাট অঞ্চল সভাপতি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলেন, ‘শ্বশুরমশাই কী করেছেন, তার দায় আমি নিতে পারব না।’ তাঁর স্ত্রী কীভাবে ভারতীয় নাগরিক হলেন, এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তিনি শুধু বলেন, ‘স্ত্রীর সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে।’ তবে সেই নথিপত্র কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সদুত্তর তিনি দেননি। প্রথমদিকে তিনি দাবি করেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির নাম ছিল। পরে অবশ্য শ্বশুর-শাশুড়ির ভোটার তালিকায় নাম তোলা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় এড়িয়ে যান তিনি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মন। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল আমলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রবণতা বেড়েছে।’ সিপিএম নেতা শুভ্রালোক দাসও ঘটনার নিন্দা করে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *