উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজকের দিনে আমরা পড়াশোনা ও কেরিয়ার নিয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। কিন্তু শরীর ও স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা, বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আলোচনা বোধহয় কমই হয়। অথচ হু এবং আইসিএমআর-এর তথ্য অনুযায়ী ভারতে বন্ধ্যাত্বের (Infertility) সমস্যায় আক্রান্তের হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। এই হার শহরাঞ্চলে আরও বেশি, প্রায় প্রতি ৬ জন দম্পতির মধ্যে ১ জন দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগে থাকে। লিখেছেন শিলিগুিড়র ক্রেডল ফার্টিলিটি সেন্টারের গাইনিকলজিস্ট ডাঃ শর্মিষ্ঠা সরকার।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যােত্বর সমস্যায় ভোগে। অর্থাৎ, টানা এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হওয়া। এই বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন –
জীবনযাত্রায় বদল – আগে মানুষ মাঠেঘাটে কাজ করতেন, তাতে শরীরচর্চা হত। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে কাটছে। ব্যায়াম প্রায় হয়ই না। শরীর তাই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
দেরিতে বিয়ে ও সন্তান পরিকল্পনা – আগে ২০–২২ বছর বয়সে বিয়ে হত। এখন অনেকে ৩০–৩৫ বছর পর বিয়ে করছেন। ফলে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা দেরিতে শুরু হয়। কিন্তু মহিলাদের ডিম্বাণুর ক্ষমতা ৩০ বছরের পর থেকে কমতে থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও শুক্রাণুর মান কমে যায়।
মানসিক চাপ – আজকাল সবাই কাজের চাপ, অর্থনৈতিক চিন্তা, পড়াশোনার চাপ নিয়ে চলেন। এই মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে গর্ভধারণের সমস্যা দেখা দেয়।
দূষণ ও পরিবেশ – বাতাস, জল, খাবার – সবকিছুতেই এখন দূষণ বেড়েছে। প্লাস্টিক, রাসায়নিক, কীটনাশক শরীরে হরমোনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
খাবার – জাংক ফুড, সফট ড্রিংকস, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া ডায়াবিটিস, থাইরয়েড ও পিসিওএস, ওজন বৃদ্ধির কারণ। এসব সন্তান ধারণে বাধা দেয়।
খারাপ অভ্যাস – ধূমপান, মদ্যপান, রাত জেগে থাকা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা কমায়।
চিকিৎসায় দেরি – অনেকে লজ্জা বা ভয় থেকে ডাক্তার দেখাতে দেরি করেন। আবার ইন্টারনেট দেখে নিজেরাই সমাধান খোঁজেন। এতে সময় নষ্ট হয়, রোগ আরও বাড়ে।
সমাধান কী
প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম, হাঁটা, যোগাভ্যাস করুন
নিয়মিত সুষম খাবার খান
মানসিক চাপ কমাতে বিশ্রাম ও ঘুম জরুরি
ধূমপান, মদ্যপান ও রাত জাগা এড়িয়ে চলুন
৩০ বছরের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনে ফার্টিলিটি চেক করান
লজ্জা না পেয়ে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন
