উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একটি নয়, পরপর চারটি চিঠি। তারমধ্যে ৩ টি চিঠিই লেখা হয়েছে অপারেশন সিঁদুরের পরে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকে পরপর এই চিঠিগুলি পাঠিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কাতর আর্জি জানিয়েছে পাকিস্তান।
গত ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে (Pahelgam) বৈসরন উপত্যাকায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এরমধ্যে ২৫ জনই পর্যটক। একজন স্থানীয় ঘোড়াচালক। ধর্মপরিচয় নিশ্চিত করে এদের একের পর এক নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হয়। এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে ভারত। ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব দেবশ্রী মুখোপাধ্যায় পাকিস্তানের জল মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ আলী মুর্তজাকে চিঠি লিখে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যে ভারত পাকিস্তান থেকে উদ্ভূত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের শিকার। পাকিস্তান ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহযোগিতার চেতনাকে ক্ষুন্ন করেছে।’ ভারতের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। মুখে গর্জন করলেও সরকারি স্তরে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করাতে কার্যত অনুনয় বিনয় শুরু করে শেহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) প্রশাসন। কিন্তু ভারত তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। পহেলগাম হামলার পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েদেন, ‘বাণিজ্য ও সন্ত্রাস, জল ও রক্ত, গুলি এবং সংলাপ একসঙ্গে চলতে পারে না।’
ভারত তখন থেকে সিন্ধু (Indus) নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত কৌশলগত জল প্রকল্পগুলির কাজ ত্বরান্বিত করা শুরু করেছে। অন্যদিকে এই চুক্তি স্থগিত করার ফলে পাকিস্তানের রবি ফসলের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষির বাইরে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। দেশে জলের সংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশংকা তৈরি হয়েছে। ফের চুক্তি নিয়ে মধ্যস্ততা করার জন্য পাকিস্তান বিশ্বব্যাংকের কাছে দরবারও করেছে। তবে, বিশ্বব্যাংক এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত করার মতো ভারতের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই এই মুহুর্তে ভারতের কাছে কাতর দরবার করা ছাড়া পাকিস্তানের সামনে আর কোনও রাস্তা নেই। বাধ্য হয়েই গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর আগেই পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তজা ভারতের জল শক্তি মন্ত্রককে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। এরপর আরও তিনটি চিঠি পাঠানো হয় নয়াদিল্লিতে, একই অনুরোধ করে। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের পাঠানো চারটি চিঠিই ভারতের জলশক্তি মন্ত্রকের তরফে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আপাতত ভারতের তরফে কোনও সাড়া দেওয়া হয়নি।
