Indian Navy Haldia Base | ড্রাগনের চোখে চোখ, হলদিয়াতেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ভারতের! টার্গেট চিন-বাংলাদেশ

Indian Navy Haldia Base | ড্রাগনের চোখে চোখ, হলদিয়াতেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ভারতের! টার্গেট চিন-বাংলাদেশ

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চায়ের কাপে তুফান তোলার মতো খবর বটে! এতদিন যা ছিল জল্পনা, এবার তাতেই পড়ল সিলমোহর। ঘরের জলেই এবার শত্রুকে বোতলবন্দি করার ছক কষে ফেলল ভারত। বঙ্গোপসাগরের বুকে চিনা ড্রাগনের দাপাদাপি আর ওপার বাংলায় রং বদলানো রাজনীতির ঘনঘটার মাঝেই বড়সড় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ দিল্লির (Bay of Bengal Safety)। খাস পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় এবার ঘাঁটি গাড়ছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy Haldia Base)। উদ্দেশ্য পরিষ্কার— উত্তর বঙ্গোপসাগরে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা এবং চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষের উপর কড়া নজরদারি চালানো।

সূত্রের খবর, হলদিয়ায় তৈরি হতে চলা এই ঘাঁটিটি হবে নৌসেনার একটি বিশেষ ‘ডিটাচমেন্ট’। সোজা কথায়, বড়সড়ো যুদ্ধের প্রস্তুতি না হলেও, শত্রুর বুকে কাঁপুনি ধরানোর মতো যথেষ্ট বারুদ এখানে মজুত থাকবে। এতদিন বিশাখাপত্তনম বা আন্দামান থেকে নজরদারি চলত, কিন্তু এবার একেবারে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে অপারেশন চালাবে নৌসেনা। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিকাঠামোকেই আপাতত ব্যবহার করা হবে, যাতে সময় নষ্ট না হয়। তৈরি হবে একটি বিশেষ জেটি এবং শোর-সাপোর্ট ফেসিলিটি।

কী থাকছে এই ঘাঁটিতে? শুনলে পিলে চমকে যাবে শত্রুপক্ষের! এখানে মোতায়েন করা হচ্ছে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (FIC) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (NWJFAC)। ৩০০ টনের এই জলদানবগুলো ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট (প্রায় ৮০-৮৫ কিমি) গতিতে ছুটতে পারে। অর্থাৎ, চোখের পলকে শত্রুর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে ভারতীয় সেনা। শুধু গতি নয়, এই রণতরীগুলোতে থাকছে সিআরএন-৯১ গান এবং ‘নাগাস্ত্র’-এর মতো লয়টারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন। অগভীর জলে বা ভিড়ভাট্টা পূর্ণ সামুদ্রিক রাস্তায় এই ছোট ও ক্ষিপ্র গতির জাহাজগুলোই আসল গেমচেঞ্জার।

কেন হঠাৎ হলদিয়া? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিছক কোনও রুটিন মুভমেন্ট নয়। একে তো ভারত মহাসাগরে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (PLAN) আনাগোনা বাড়ছে, তার ওপর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের দহরম-মহরম দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতেও এই ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটগুলো যমের মতো কাজ করবে। কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের এই স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন থেকে হুগলি নদী পার করার সময়টুকুও আর নষ্ট হবে না, সোজা বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে বাহিনী।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এখানে প্রায় ১০০ জন নৌসেনা অফিসার ও নাবিক মোতায়েন থাকবেন। ২০২৪ সালেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রচুর পরিমাণে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল। এবার সেই রণকৌশলই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে বাংলার মাটিতে।

সব মিলিয়ে, হলদিয়ার এই নতুন ঘাঁটি যে আগামীদিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের ‘ট্রাম্প কার্ড’ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ড্রাগনের চোখে চোখ রেখে ভারত বুঝিয়ে দিল— জলসীমায় এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ার পাত্র তারা নয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *