উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ টেস্টের মঞ্চে ড্র দিয়ে শুরুটা মন্দ ছিল না। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে শুভমান গিলের যাত্রা যেন এক দুঃস্বপ্ন। দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়াল ‘মেন ইন ব্লুজ’রা। পারথের পর অ্যাডিলেডেও ভারতকে ভোগাল ব্যাটিং-বিভ্রাট, আর তার ফলস্বরূপ অধিনায়কের নামের পাশে জুড়লো এক লজ্জাজনক হার।
বৃহস্পতিবার, অ্যাডিলেডের মেঘলা আকাশের নিচে ফের টস ভাগ্য ফেরেনি শুভমান গিলের। টানা সতেরোতম টস হার, এক কঠিন পরিসংখ্যান। ভেজা পিচে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড যেন হয়ে উঠেছিলেন সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত।
আগে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মা (৭৩) এবং শ্রেয়স আইয়ার (৬১) এর লড়াকু অর্ধশতরানের ওপর ভর করে ২৬৪ রান করতে সমর্থ হয় ভারত। মিডল অর্ডারে অক্ষর প্যাটেলের (৪৪) অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক গিল মাত্র ৯ রানেই ফেরেন। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল বিরাট কোহলির; পারথের পর অ্যাডিলেডেও তাঁর সংগ্রহ শূন্য। শেষের দিকে হর্ষিত রানা ও অর্শদীপ সিংয়ের নবম উইকেটে ৩৭ রানের জুটি স্কোরবোর্ডকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেয়।
২৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে ধাক্কা দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। মিচেল মার্শ এবং ট্র্যাভিস হেড ৫৪ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কিন্তু এরপর ম্যাথিউ শর্টের ৭৪ রানের পরিণত ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরে। ম্যাট রেনশ এবং কুপার কনোলিদের ছোট ছোট অথচ কার্যকর ইনিংসে ভর করে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজি ব্রিগেড।
এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ হেরে এখন শুধু নিয়মরক্ষার লড়াই ভারতের সামনে। আগামী শনিবার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ ওয়ানডে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন কেবল একজন খেলোয়াড়ের দিকে—বিরাট কোহলি। এই সিরিজে তাঁর ব্যাটে রান খরা ঘোচে কিনা, সেটাই এখন দেখার। শুভমানের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের প্রথম অধ্যায়ে এই ‘লজ্জার’ হার কতখানি প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে।
