ভারত তার নিজের জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা করতে নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘রক্তচক্ষু’র মাঝেই গর্জন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভের।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আলিপভ বলেন, “রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্তটি ভারত তার নিজস্ব স্বার্থেই নিয়েছে। রাশিয়াকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে না; বরং নিজেদের প্রয়োজন ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই তারা এই তেল কিনছে।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, “ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নয়াদিল্লির প্রয়োজন অনুযায়ী রাশিয়া যে কোনও পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত।” রাশিয়ার তেল বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে পশ্চিমের দেশগুলির নিষেধাজ্ঞাকে ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসাবে অভিহিত করেছেন তিনি। বলে রাখা ভালো, রুশ তেলের গ্রাহকদের শিক্ষা দিতে মার্কিন সেনেটে পাশ হয়েছে নয়া বিল। যার জেরে কোনও দেশ রাশিয়ার তেল কিনলে তার উপর চাপবে ১০০ শতাংশ শুল্ক। মনে করা হচ্ছে, আমেরিকার এই পদক্ষেপের জেরে বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে রাশিয়ার উপর পশ্চিমি দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের পরিকাঠামোতে বদল আসে। সেই সময় থেকেই তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল কিনছে ভারত। ফলে দেশের তেল শোধনাগারগুলির কাঁচামালের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। সরবরাহও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ক্রুডের দাম কিছুটা কমলেও, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির কাছে রুশ তেল এখনও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। কারণ, গত কয়েক বছরে রাশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তারা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
