উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc)। সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতির ভবন পর্যন্ত এক প্রতিবাদী মার্চ শেষে প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতির হাতে চার দফা দাবির একটি স্মারকলিপি তুলে দেয়। বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করলেও এর স্বপক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে গোটা বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিনের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রাহুল ছাড়াও ছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রায়, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং ভিসিকে-র থোল তিরুমাভালাম।
এদিন বৈঠকের পর মমতা জানান, “আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতির ইতিবাচক মনোভাব দেখতে পেয়েছি। উনি আমাদের বলেছেন, বিষয়টা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবেন। তবে তার জন্য ওঁর প্রমাণের প্রয়োজন।” তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাঁদের অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি এবং তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা তাঁরা খুব শীঘ্রই পাঠাবেন।
• রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ ও অভিযোগ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেন বিরোধী সাংসদ ও নেতারা। বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ তুললেও রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি, তবে প্রমাণ জমা দিতে বলেছেন।
• ইন্ডিয়া জোটের ৪ দফা দাবি:
১. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
২. ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ১৩.৩ কোটি ভোটারদের নাম পুনর্বহাল ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা।
৩. সমস্ত নির্বাচনে পুনরায় ব্যালট পেপার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
৪. বিগত দুই বছরে অনুষ্ঠিত যে সমস্ত বিধানসভা নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’র সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে, সেগুলি বাতিল করা।
রাষ্ট্রপতি ভবনের পর এবার আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেবেন বিরোধী জোটের নেতারা।

