উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (India-Bangladesh border stress) ‘পুশ-ইন’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এবার সীমান্ত এলাকায় ‘হিউম্যান শিল্ড’ বা মানবঢাল তৈরির ডাক দিল বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ভারত কর্তৃক বাংলাদেশিদের পুশ-ইন এবং বিএসএফ-এর গুলিতে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে আগামীকাল ১২ জুন সীমান্তজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
জামায়াত নেতা ও জোটের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, ১২ জুন প্রতিটি সীমান্ত জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল হবে এবং ১৫ জুন ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ ও পদযাত্রা করা হবে। তাদের দাবি, গত তিন মাসে সীমান্তে অন্তত ৫০টি পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ২,৫০০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিএসএফ-এর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশির (Bangladeshi) মৃত্যু ও ২৪ জন আহত হওয়ার গুরুতর অভিযোগও তুলেছে এই জোট। এনসিপি প্রধান নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি সীমান্তবাসীদের সরাসরি ‘হিউম্যান শিল্ড’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ‘সন্ত্রাসী বা অপরাধীরা’ প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অবস্থানকেও কাঠগড়ায় তুলেছে জামায়াত। তাদের অভিযোগ, বর্তমান বিএনপি সরকার সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের কাছে নমনীয়। যদিও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ ও বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত বরাবরের মতোই ‘পুশ-ইন’-এর অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো ‘পুশ-ইন’ হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে কেবলমাত্র অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, ভারতীয় আইনে থাকা অবৈধ বিদেশিদের যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পরেই ফেরত পাঠানো হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, প্রায় ৪,৮০০ অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮ শতাধিক প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। একদিকে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও, জামায়াত জোটের এই রাজপথের কর্মসূচি সীমান্ত পরিস্থিতিকে কতটা অস্থির করে তুলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
