উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওডিশায় বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এক বাঙালি মুসলিম যুবককে পিটিয়ে (Odisha Mob Lynching) মারার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পিডিপি (PDP)। দলের নেত্রী তথা মেহবুবা মুফতির কন্যা ইলতিজা মুফতি (Iltija Mufti) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এ যেন হিন্দুস্তান নয়, লিঞ্চিস্থান হয়ে উঠছে।’ এই মন্তব্যকে (Iltija Mufti Lynchistan Comment) ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সম্প্রতি ওডিশায় একদল উন্মত্ত জনতা বাংলাদেশি অভিযোগে এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা যায়, ওই যুবকের নাম আব্দুল রহমান এবং তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকেই এই হামলা (Muslim Youth Killing) কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই ঘটনার পর ইলতিজা মুফতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বের টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “ভারতে সংখ্যালঘুরা আর নিরাপদ নয়। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে মুসলিমদের ওপর হামলা হচ্ছে। ওড়িশার এই ঘটনা তারই প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি সরকারের আমলে দেশে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা আইনের শাসনকে তোয়াক্কা করছে না, কারণ তারা জানে তাদের পেছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে।’ ইলতিজা প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি গান্ধি-নেহরুর ভারত থেকে সরে গিয়ে লিঞ্চিস্থানের দিকে এগোচ্ছি?’
ইলতিজার এই মন্তব্যের পর বিজেপি পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, ‘পিডিপি সবসময় বিভাজনের রাজনীতি করে। ওড়িশার ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। পুলিশ তদন্ত করছে, দোষীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু ইলতিজা মুফতি এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন।’ অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও এই ঘটনায় সরব হয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। ওড়িশা সরকারও ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে।
ইলতিজার ‘লিঞ্চিস্থান’ মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বলছেন, দেশে গণপিটুনির ঘটনা সত্যিই বেড়ে গেছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আবার অনেকে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করে বলছেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা দেশকে কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক এই ঘটনা আবারও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং অসহিষ্ণুতার বিতর্ককে উস্কে দিল।
