উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের জল গড়িয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Courtroom) এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি। একদিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অভিযোগ, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পালটা হলফনামা—সব মিলিয়ে আজকের শুনানির দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চলাকালীন সেখানে সশরীরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ, লাউডন স্ট্রিটের সেই তল্লাশি অভিযান থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে তদন্তের জরুরি নথি ও ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সরাসরি তদন্তে বাধার সমান। এই প্রেক্ষিতেই ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।
গত মঙ্গলবার শুনানির আগের রাতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের তরফে পালটা হলফনামা জমা দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, সেখানে দাবি করা হয়েছে যে তল্লাশিতে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। বরং ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি থেকে দলের নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
গত সপ্তাহে ইডি হলফনামার জবাব দিতে সাতদিন সময় চেয়ে নেওয়ায় শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। আজ বিচারপতিদের বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সংস্থা কী নতুন প্রমাণ পেশ করে এবং রাজ্য প্রশাসন কীভাবে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে, সেটাই দেখার। ইডি ও রাজ্য সরকারের এই নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের রায় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।
