উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বড়দিনের আগের রাতে হায়দরাবাদের নাল্লাকুন্তা এলাকায় ঘটে গেল এক চরম নৃশংস ঘটনা। পরকীয়ার সন্দেহে নিজের স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার রাোষের মুখে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে দম্পতির নাবালিকা কন্যাও। অভিযুক্ত স্বামীর নাম ভেঙ্কটেশ, সে আপাতত পলাতক।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম ত্রিবেণী। ভেঙ্কটেশ ও ত্রিবেণী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ, গত বেশ কিছু সময় ধরে ভেঙ্কটেশ তাঁর স্ত্রীর চারিত্রিক সততা নিয়ে সন্দেহ করত। এই নিয়ে সংসারে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত।
স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি ত্রিবেণী বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভেঙ্কটেশ নিজেকে শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি ফের স্বামীর কাছে ফিরে আসেন। গত ২৪শে ডিসেম্বর সেই বিবাদ চরমে পৌঁছায়। দুই সন্তানের সামনেই ভেঙ্কটেশ প্রথমে ত্রিবেণীকে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
অসহায় মেয়ের ওপর আক্রমণ
ত্রিবেণী যখন যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলেন, তখন তাঁর নাবালিকা মেয়ে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসে। অভিযোগ, পাষণ্ড বাবা তখন নিজের মেয়েকেও ধাক্কা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে ফেলে দেয়। এরপরই বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত ভেঙ্কটেশ। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রিবেণীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। দগ্ধ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
নাল্লাকুন্তা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ এবং সন্দেহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশের একটি বিশেষ টিম পলাতক ভেঙ্কটেশের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
