উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের সাড়ে ১১ লক্ষ সেনার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারের বিধিনিষেধে বড়সড়ো বদল আনল ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Military New Social Media Coverage)। দীর্ঘদিনের কঠোর নিয়মে খানিকটা ছাড় দিয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে আংশিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম (Instagram) ব্যবহারের ওপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া নজরদারি: সেনা সূত্রে খবর, মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য যাতে ফাঁস না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধগুলি ছিল। নয়া বিধিতেও সেই নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, সেনাকর্মীরা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারলেও সেখানে কোনও মন্তব্য (Remark) করতে পারবেন না কিংবা নিজস্ব কোনও ‘কনটেন্ট’ বা পোস্ট শেয়ার করতে পারবেন না। এমনকি অন্য কারও পোস্টও শেয়ার করা যাবে না। কেবল অন্যের পোস্ট বা কনটেন্ট দেখার অনুমতি মিলবে।
হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে ছাড়: সংশোধিত বিধি অনুসারে, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং স্কাইপের মতো অ্যাপগুলিতে সেনাকর্মীরা তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, কেবল পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেই কথোপকথন চালানো যাবে এবং কোনওভাবেই স্পর্শকাতর বা গোপনীয় তথ্য আদানপ্রদান করা যাবে না। সেনাকর্মীদের ভিপিএন (VPN) বা প্রক্সি সাইট ব্যবহার না করার জন্যও কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লিঙ্কডইন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম: সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি এক্স (পূর্বতন টুইটার), ইউটিউবেও সেনাকর্মীরা ‘পরোক্ষভাবে’ অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ, তাঁরা বিষয়বস্তু দেখতে পারবেন কিন্তু কোনওভাবেই জনসমক্ষে মতপ্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে, পেশাদারদের প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আংশিক ছাড় মিলেছে। তবে সেটি শুধুমাত্র নিজেদের জীবনপঞ্জি আপলোড করা এবং চাকরির খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
কেন এই পরিবর্তন? এতদিন নিয়ম ছিল, সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হওয়ার পর সেনাকর্মীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিতে হতো। নয়া বিধিতে সেনাকর্মীদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাতে জওয়ানরা ডিজিটাল দুনিয়ার খবরাখবর রাখতে পারেন এবং সেই সঙ্গে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও এড়ানো যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ খানিকটা শিথিল করা হলো। তবে ফেসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে নয়া বিধিতে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
