উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ চলতি বছরে চিনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (Tropical Cyclone) হিসেবে চিহ্নিত টাইফুন ‘ডলফিন’ রবিবার (Hurricane Dolphin) বিকেলে চিনের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ল। প্রবল বৃষ্টি এবং প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থলভাগে প্রবেশ করার পর থেকেই ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিধস এবং বন্যার আশঙ্কায় একাধিক উপকূলীয় এলাকায় জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
চিনের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানের কাছে আছড়ে পড়ে টাইফুন ডলফিন। সেই সময় ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৪২ মিটার বা ঘণ্টায় প্রায় ১৫১ কিলোমিটার।
ঝড়ের প্রভাবে চিনের পূর্ব উপকূলে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক বন্দর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১৬২টি ফেরি রুট স্থগিত করা হয়েছে। নিংবো সহ সংলগ্ন এলাকার সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। জলভিত্তিক সমস্ত কার্যকলাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। নিংবো বিমানবন্দর সহ চিনের বিভিন্ন অংশে বহু বিমান বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের জেরে পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু অংশে ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিনে আছড়ে পড়ার আগে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল টাইফুন ডলফিন। সেখানে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ঝড়ের প্রবল হাওয়ায় ওকিনাওয়ায় প্রায় ১৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে অন্তত পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যদিও তাঁদের কারও আঘাত গুরুতর নয়। জাপানে এই ঝড়ের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যাহত ও বাতিল করা হয়। তাইওয়ানও এই ঝড়ের জেরে ৬৩টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চিন তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজকে তাদের নির্দিষ্ট ট্রাফিক-কন্ট্রোল নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে চিনের এই একতরফা নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছে তাইওয়ান। ফলে ঝড়ের প্রভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনার ছবিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফুন ডলফিনের সরাসরি কোনো হুমকি ভারতের ওপর নেই। ঝড়টি ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে না। তবে এর সুদূরপ্রসারী বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর (Monsoon) ওপর পরোক্ষভাবে পড়তে পারে। এর ফলস্বরূপ মধ্য ও উত্তর ভারতের কিছু অংশে সাময়িক সময়ের জন্য বর্ষার বৃষ্টিপাত কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং কয়েকদিনের জন্য একটি ‘ড্রাই স্পেল’ বা কম বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদদের অনুমান, টাইফুনটি দুর্বল হয়ে কেটে যাওয়ার পর ভারতের মৌসুমি বায়ু আবার তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।

