নিজের গড় রেজিনগরেই কি হারের ভয় পাচ্ছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর? যে হুমায়ুন এতদিন পর্যন্ত রেজিনগর নিয়ে রীতিমতো আস্ফালন করতেন, ভোট ঘোষণা হতেই তিনি কেমন যেন মিইয়ে পড়েছেন। এমনকী মঙ্গলবার সাংবাদ সম্মেলন করে, বিজেপিকে রুখতে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাকও দিয়েছেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলছেন, গ্রহণযোগ্য বিরোধী হতে গেলে ইগো ভুলে সব বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আসতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজের পার্টি অফিসে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবীর বলেন, “রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৬টি আসনে বিরোধীরা জিতেছে। এর মধ্যে তৃণমূলের ৮০-র বেশি, কংগ্রেসের ২টি, সিপিএমের ১টি ও আইএসএফের ১টি এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একজন বিধায়ক রয়েছেন। এই ৮৬জন বিধায়ক যদি ইগো ভুলে এককাট্টা হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ে, তবে ২০২৬-এ এসেও বিজেপিকে রোখা সম্ভব।”
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ইগো ছেড়ে, সুজন চক্রবর্তী যদি ইগো ছেড়ে, নওশাদ সিদ্দিকী যদি ইগো ছেড়ে ও কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে এক টেবিলে বসতে পারে তাহলে কঠিন লড়াই হবে। বাংলার স্বার্থে জোটবদ্ধ লড়াই জরুরি। তাহলেই গ্রহণযোগ্য বিরোধী দল তৈরি হবে।” এর আগেই রেজিনগর আসন কংগ্রেসকে ছাড়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন, জাতীয় স্তরে বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের হাত শক্ত করা জরুরি। হুমায়ুন তেমন কিছু না বললেও জোটের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন তিনিও। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, রেজিনগরে কংগ্রেস নিজের শক্তিতেই লড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এ রেজিনগর ও নওদা – জোড়া কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনিও নিয়ম মেনে রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন হুমায়ুন। সেখানে এবার নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণাও করেছেন। কিন্তু শেষবেলায় তিনি যেভাবে অন্য দলগুলির সাহায্য চাইছেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে, হুমায়ুন কি ভয় পেয়েছেন? উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ৯ অক্টোবর ফলপ্রকাশ। রেজিনগরে ৬৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার। সেখানে হিন্দু ভোট মাত্র ২৮ শতাংশ। তাহলে এত ভয় কেন হুমায়ুনের?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
