উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ আইপিএলের গ্ল্যামার আর রোমাঞ্চের দুনিয়ায় এবার কড়া পাহারার বজ্রআঁটুনি! বিনোদনের আড়ালে যাতে কোনোভাবেই ‘হানি ট্র্যাপ’ বা যৌন কেলেঙ্কারির মতো মারাত্মক অভিযোগের কালো ছায়া না পড়ে, তার জন্য কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) (Honey lure warning in IPL 2026)। ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় ৭ পাতার এক চরমপত্র পাঠিয়েছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকিয়া। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, নির্দেশিকা অমান্য করলে শুধু জরিমানা নয়, টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি সাসপেন্ড বা নির্বাসিত হতে হবে খেলোয়াড়দের!
বোর্ডের এই ৭ পাতার নির্দেশিকায় কার্যত ঘুম উড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। আইপিএলের ইতিহাসে কেলেঙ্কারি রুখতে এমন কড়া পদক্ষেপ আগে কখনো দেখা যায়নি। সচিব দেবজিৎ শইকিয়া তাঁর চিঠিতে পরিষ্কার জানিয়েছেন, হাই-প্রোফাইল এই মেগা টুর্নামেন্টে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ফাঁদে ফেলার মতো মারাত্মক ঝুঁকি সবসময় ওত পেতে থাকে। এর থেকে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজমেন্টকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে বিসিসিআই এবং আইপিএল অপারেশন টিমের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়েছে। এই স্পেশাল টিমের সদস্যরা যেকোনো সময়, দিন বা রাতের তোয়াক্কা না করে আচমকা খেলোয়াড়দের হোটেল রুমে হানা দিতে পারেন!
টিম ম্যানেজারের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো বহিরাগত ব্যক্তি—তিনি খেলোয়াড় বা আধিকারিকের যতই ঘনিষ্ঠ হোন না কেন—কোনোভাবেই হোটেল রুমে প্রবেশ করতে পারবেন না। অনুমোদিত অতিথিদের সমস্ত রেকর্ড ম্যানেজারকে কড়াভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। নজরদারি এখানেই শেষ নয়! দিন বা রাতের যেকোনো সময় ব্যক্তিগত, বিনোদন বা অন্য কোনো প্রয়োজনে টিম হোটেল থেকে বাইরে পা রাখতে হলে সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) এবং টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসারকে (টিআইও) আগে থেকে জানাতে হবে এবং তাঁদের ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।
বোর্ড সচিব তাঁর নির্দেশিকায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, এই নিয়মগুলোর কোনোটি লঙ্ঘিত হলে তা চরম শৃঙ্খলারক্ষা ভঙ্গের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং অভিযুক্ত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে নির্দয়ভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তির মধ্যে শো-কজ নোটিশ, বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা, টুর্নামেন্ট থেকে সাসপেনশন বা সম্পূর্ণ ডিসকোয়ালিফিকেশনের মতো খাঁড়া নেমে আসতে পারে। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি নিয়ম ভঙ্গের কথা গোপন করে, তবে অডিট করে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একইসঙ্গে, ম্যাচ চলাকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ডাগআউটে থাকা খেলোয়াড় বা ম্যানেজারদের সঙ্গে কোনোপ্রকার যোগাযোগ করতেও কড়াভাবে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই এবার বুঝিয়ে দিল, আইপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তারা কাউকে এক চুলও রেয়াত করবে না!
