প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় পুকুর সংস্কারের কাজ চলাকালীন উদ্ধার হল প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন এক কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি (Historical Vishnu Idol)। রায়না থানার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রায়না থানা থেকে মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় (মিউজিয়াম) স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ার একটি মজে যাওয়া পুকুর সংস্কারের জন্য মাটি কাটার যন্ত্র (জেসিবি) দিয়ে খনন কাজ চলছিল। পুকুরের গভীর থেকে মাটি তোলার সময় হঠাৎই যন্ত্রের ডগায় উঠে আসে কালো পাথরের একটি সুদৃশ্য মূর্তি। মূর্তিটি নিজের কাছে রাখা নিয়ে পুকুর মালিকের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বিবাদ শুরু হলে রায়না থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কিউরেটর তথা বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার অধিকর্তা রঙ্গনকান্তি জানা জানান, এটি একাদশ-দ্বাদশ শতকের অর্থাৎ সেন আমলের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি। ৩৩ ইঞ্চি উচ্চতা এবং ১৩ ইঞ্চি প্রস্থের এই মূর্তিতে বিষ্ণুদেবের চার হাতে পদ্ম, চক্র, গদা ও শঙ্খ বিদ্যমান। দেবতার দুই পাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মূর্তিও খোদাই করা রয়েছে। তবে মাটি কাটার যন্ত্রের আঘাতে মূর্তিটির নাক, বাঁ চোখ এবং শরীরের একাংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম কর্মী শ্যামসুন্দর বেরা রায়না থানা থেকে মূর্তিটি সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, গত বছরও রায়না থেকে অনুরূপ দুটি প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল যা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, পাল-সেন যুগের ধর্মীয় ও শিল্পকলা সম্পর্কে এই মূর্তিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে। আপাতত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালাই হতে চলেছে এই প্রাচীন নিদর্শনের নতুন ঠিকানা।
