উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জানুয়ারির শেষলগ্নে রূপকথার সাজে সেজেছে হিমাচল। কোথাও দু’ফুট, কোথাও আবার সাড়ে তিন ফুট বরফের পুরু আস্তরণ। তুষারপাতের এই ‘সাদা আমন্ত্রণে’ সাড়া দিয়ে হিমাচলের শৈলশহরগুলিতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। তবে উপরি পাওনা হিসেবে আসা এই তুষারপাত যেমন পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তেমনই প্রশাসনের কপালে ফেলেছে চিন্তার ভাঁজ। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বরফে বন্দি কিন্নৌর ও কুফরি
প্রকৃতির এই তুষার-উৎসবে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে কিন্নৌর জেলার কোঠিতে। সেখানে রাস্তাঘাট প্রায় সাড়ে তিন ফুট বরফের নীচে তলিয়ে গিয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুফরি এবং খোদ শিমলাতেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। কোথাও দুই তো কোথাও তিন ফুট বরফের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
যানজট এড়াতে রুট বদলের পরামর্শ
শনিবারও শিমলা ও তার সংলগ্ন উঁচু এলাকাগুলোতে দফায় দফায় তুষারপাত চলছে। চণ্ডীগড়, পঞ্জাব ও দিল্লি থেকে আসা পর্যটকদের চাপে শিমলার মূল রাস্তায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন বিকল্প পথের হদিশ দিয়েছে:
• বাইপাস ব্যবহার: যাঁরা চণ্ডীগড় থেকে সরাসরি কুফরি যেতে চান, তাঁদের মূল শিমলা শহর এড়িয়ে ‘নিউ আইএসবিটি তুতিকান্ডি’ হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• সতর্কতা: ৫ নম্বর জাতীয় সড়ক সচল থাকলেও, ভারী তুষারপাতের কারণে ঢাল্লি-ভট্টকুফ্ফর পুরনো শিমলা রোড আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
পর্যটনে বসন্ত, হোটেল বুকিং তুঙ্গে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তুষারপাত শুরু হওয়ায় হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। শিমলা হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিন্দর শেঠ জানিয়েছেন, ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারির টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আশা করা হচ্ছে, এই ক’দিনে হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির প্রায় ৮০ শতাংশই বুক হয়ে যাবে।
পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের বিশেষ টিপস:
“তুষারপাতের রোমাঞ্চ উপভোগ করার সময় সাবধানে গাড়ি চালান। পিচ্ছিল রাস্তায় বাইক বা গাড়ি নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না। স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশিকা মেনে বিকল্প পথ ব্যবহার করুন।” — প্রশাসন সূত্র
কালকা-শিমলা বিভাগের প্রকল্প অধিকর্তা আনন্দ দাহিয়া জানিয়েছেন, রাস্তা পরিষ্কার রাখার কাজ চলছে যাতে পর্যটকদের খুব একটা সমস্যায় না পড়তে হয়। আবহাওয়ার উন্নতি হলেও পাহাড়ে আগামী কয়েক দিন বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
