পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বালুরঘাটের সৃষ্টিশ্রীমেলার হাত ধরে উঠে আসছে হিলির (Hili) পোড়ামাটির শিল্প (Terracotta)। ত্রিমোহিনী, বিনশিরা, চকদাপট সহ হিলি ব্লকের একাধিক এলাকা থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা তাঁদের পোড়ামাটির শিল্পকর্ম নিয়ে হাজির হয়েছেন মেলায়। লন্ঠন থেকে শুরু করে ধূপদানি, পেনদানি, পঞ্চপ্রদীপ, ধূপতি সহ নানান নান্দনিক সামগ্রীতে ভরে উঠেছে স্টল। তার সঙ্গে রয়েছে পোড়ামাটির গণেশের মূর্তি। যা ঘর সাজানোর জন্য ক্রেতাদের বিশেষ পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
মেলায় অবশ্য কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মাটির মূর্তিরও অভাব নেই। তবে কার্যত তাদের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই দিচ্ছে হিলির মৃৎশিল্প। ক্রেতাদের বক্তব্য, হিলির শিল্পীদের কাজে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনই দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ ও ১০০ টাকার মধ্যে ছোট ছোট নান্দনিক সামগ্রী মিলছে। পোড়ামাটির লন্ঠন ও ধূপদানির পাশাপাশি মাটির গ্লাস, বাটি ও থালার বিক্রিও ভালো। পটচিত্রেরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
হিলির লালপুর, চকদাপট, বিনশিরা, পালপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় মৃৎশিল্পের প্রতি আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। প্রথমদিকে এসব এলাকার শিল্পীরা বালুরঘাট শহর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে মাটির জিনিস পাইকারি কিনে বিক্রি করতেন। পরে ধীরে ধীরে নিজেরাই নিত্যনতুন নকশায় মাটির সামগ্রী তৈরি করতে শুরু করেন। এতে একদিকে যেমন শিল্পের বিকাশ ঘটছে, তেমনই বহু পরিবার স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পাচ্ছে। বিশেষ করে মহিলারা ঘর সাজানোর উপকরণ তৈরিতে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন।
চকদাপট এলাকার মৃৎশিল্পী পিংকি পাল জানালেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। সৃষ্টিশ্রীমেলায় প্রথম দিন থেকেই তাঁর তৈরি সামগ্রীর বিক্রি ভালো হচ্ছে। লন্ঠন আর গণেশের মূর্তির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি মাটির ব্যাং ও কাপপ্লেটও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় ঘুরতে আসা অনির্বাণ সরকার বলেন, ‘এবার হিলির পোড়ামাটির জিনিসগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে লন্ঠন আর পঞ্চপ্রদীপের নকশা খুব সুন্দর। দামও সাধ্যের মধ্যে, তাই কয়েকটা কিনে নিলাম।’ ঘর সাজানোর জন্য একটা পোড়ামাটির গণেশের মূর্তি কিনেছেন কুমারগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে আসা গৃহবধূ সুতপা মণ্ডল। বললেন, ‘এই ধরনের জিনিস মেলায় পাওয়া যায় বলেই আসতে ভালো লাগে।’
সবমিলিয়ে সৃষ্টিশ্রীমেলায় হিলির পোড়ামাটির শিল্প যে আলাদা করে নিজের জায়গা করে নিয়েছে, তা মানছেন শিল্পী থেকে ক্রেতা—সকলেই।
