শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : কাঁটাতারের ওপারের অরাজক পরিস্থিতিতে সীমান্ত ঘেরা চিকেন নেকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা। বাংলাদেশে অস্থিরতার সুযোগে দুর্বল বা খোলা সীমান্ত পেরিয়ে চিকেন নেকে ঢুকে নাশকতার ছক করতে পারে জঙ্গিরা, সক্রিয় করতে পারে তাদের স্লিপার সেলের সদস্যদের। ইতিমধ্যেই সেই বার্তা পৌঁছেছে সব নিরাপত্তা এজেন্সির কাছেই। তারপরই চিকেন নেকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শনিবার তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠকে বসল জয়েন্ট কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (জেসিসি)। চিকেন নেকের বিশেষ নিরাপত্তার জন্য ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ, এসএসবি, সিআরপিএফ, রাজ্য পুলিশ সহ প্রায় সব আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জেসিসি। বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় তৈরি, তথ্য আদানপ্রদান করা এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করাই জেসিসি’র মূল উদ্দেশ্য।
এদিন শিলিগুড়ির সুকনা সেনাছাউনিতে বৈঠক বসেছিল। সেখানে জেসিসি’র জেনারেল কমান্ডিং অফিসার ছাড়াও সেনা, বিএসএফ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিআরপিএফ, এসএসবি সহ বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী, রাজ্য প্রশাসনের একাধিক পদস্থ কর্তা এবং একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। দিনভর কয়েক দফায় বৈঠক হয়। চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করেন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা।
সূত্রের খবর, রাতে করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত সকলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। করিডরে ঢোকা এবং বের হওয়ার প্রত্যেকটি রাস্তায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও হয়েছে। এক্ষেত্রে সেনার সাহায্য নেবে পুলিশ। ইতিমধ্যেই আঁটোসাঁটো করা হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা। বিএসএফের সঙ্গে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও হয়েছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সীমান্তে নাকা চেকিং বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও হয়েছে এদিন। পাশাপাশি করিডরজুড়ে রাতে পুলিশি টহলদারিও দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
বিএসএফের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘এদিনের বৈঠকে চিকেন নেকে কোনও সংকটজনক অবস্থা তৈরি হলে কীভাবে সব সংস্থা একযোগে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ করতে পারে, সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা, আধাসামরিক বাহিনী এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অস্থিরতার আঁচ যাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা এই স্পর্শকাতর করিডরের ওপর না পড়ে, তার জন্য একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘চিকেন নেকের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফও অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু করেছে।’
হঠাৎ সংকট তৈরি হলে তার মোকাবিলার জন্য যৌথবাহিনী কীভাবে কাজ করবে তার মহড়ার প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছে এদিন। তবে সেনা সূত্রের খবর, বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল সীমান্তের কিছু এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাতে পারে জেসিসি। অসম-বাংলা সীমানায় হতে পারে অভিযান। হাওলার মাধ্যমে জঙ্গিদের অর্থ আদানপ্রদানের কিছু তথ্য নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গোপনে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। চিকেন নেকের নিরাপত্তায় বায়ুসেনা একাধিক বড় পদক্ষেপ করছে। সেই বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি জেসিসি’র কোনও আধিকারিকই।
