হেমতাবাদঃ হেমতাবাদে এক ২৫ বছর বয়সী গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতিসহ দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে হেমতাবাদ থানার পুলিশ শফিকুল ইসলাম নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে (Hemtabad Gangrape Case)। ধৃতের বাড়ি হেমতাবাদ থানার বাহারাইল সংলগ্ন কালুয়া গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ জুন ওই গৃহবধূ তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে জমি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জঙ্গল দিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত চেরাই মিলে (স’ মিল) নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে গৃহবধূর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার সময় একজন গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে রাখে এবং বাকিরা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ওই সময় সঙ্গে থাকা গৃহবধূর দুই নাবালক সন্তান বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের পুরো বিষয়টি জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করেন এবং তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হেমতাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে হেমতাবাদ থানার পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

