হরিশ্চন্দ্রপুর: মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ঠিক সংলগ্ন এলাকাতেই বিজেপি নেতা ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে চরম দাদাগিরি ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল (Harishchandrapur bjp chief vandalism)। এক ব্যবসায়ীর দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা এবং প্রতিবাদ করায় তাঁর বয়স্ক মাকে সজোরে বুকে ধাক্কা মেরে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, পাল্টা ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার ভাইকে ছুরিকাঘাত করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় থানা সংলগ্ন অঞ্চলে সোনু কেশরী নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরী এবং তাঁর ভাই গত কয়েকদিন ধরে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে অশান্তি করছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে অর্জুন কেশরী শিবসেনার প্রার্থী হয়ে বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করলেও, পরবর্তী সময়ে তৃণমূল জমানায় শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বর্তমানে তিনি আবার বিজেপির পরিচয়ে এলাকায় দাদাগিরি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
গতকাল রাতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, অর্জুন কেশরী ও তাঁর ভাই জোর করে সোনু কেশরীর দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেন। এরপর আজ সকালে সোনুর মা দোকান খুলতে গেলে তাঁকে সজোরে বুকে আঘাত করে মারধর করা হয়। ঘটনার জেরে আহত ওই মহিলাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী পরিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে আটকও করেছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় সম্পূর্ণ উলটো সুর শোনা গিয়েছে অভিযুক্ত বিজেপি নেতার ভাইয়ের গলায়। আহত অবস্থায় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অর্জুনের ভাই ভীম কেশরী দাবি করেছেন, ‘‘ওরা আমার অফিসের ঠিক সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে আমার ব্যক্তিগত কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে উলটে ওরাই আমার ওপর আক্রমণ চালায়। আমাকে ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।’’
দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় বিজেপি নেতার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক রূপেশ আগরওয়ালা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘‘দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ করে, দল তা কখনো সমর্থন করবে না। আমরা সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে চলি, তাই সাধারণ মানুষের ওপর কোনো রকম অত্যাচার বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করুক, তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’’
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের তরফেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

