সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: না আছে উপযুক্ত পরিকাঠামো, না আছে ভালো খেলার মাঠ। এইসব প্রতিকূলতাকে জয় করে রাজ্যের হয়ে জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পেয়েছে কুশিদা হাইস্কুলের আট পড়ুয়া (Harishchandrapur)। এই আট পড়ুয়ারা কেউ দিনমজুর, কেউ কৃষক আবার কেউ টোটোচালকের সন্ত্বান। আর্থিক প্রতিকূলতাকে পার করে চলতি মাসের ২২ তারিখ থেকে মধ্যপ্রদেশে শুরু হতে চলা ন্যাশনাল স্কুল গেমসের অনূর্ধ্ব ১৪ বালক বিভাগে এই রাজ্যের হয়ে খেলবে কুশিদা হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মহম্মদ আমির ফারুক, রইফ সিদ্দিকী, ওম দাস এবং রোহেদ।
অন্যদিকে, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-১৭ বালক বিভাগের ন্যাশনাল স্কুল গেমস। সেখানে এই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রাজা রায় হকি খেলার সুযোগ পেয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৭ ন্যাশনাল স্কুল গেমস বালিকা বিভাগে রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে নবম শ্রেণির সোমদত্তা দাস, ও দশম শ্রেণির মহিমা রহমান। রাজস্থানের উদয়পুরে অনূর্ধ্ব-১৯ ন্যাশনাল স্কুল গেমস শুরু হবে আগামী বছর ১৭ জানুয়ারি থেকে। সেখানে হকি টুর্নামেন্টে রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া শিবা রায়।
রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন স্তরের একাধিক টুর্নামেন্টে সুনাম অর্জন করেছে কুশিদা হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা জেলা বা রাজ্যের তরফে কোনও সরকারি সাহায্য বা বিশেষ ফান্ড পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের শিক্ষকদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে গ্রাম বাংলার এই ছেলেমেয়েরা এতদূর পৌঁছেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ হাসিবের কথায়, ‘এলাকার বাসিন্দা এবং স্কুলের শিক্ষকরা মিলে আর্থিক সাহায্য করেছেন তাই আজ আমাদের স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এতদূর পৌঁছাতে পেরেছে। বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় একশোজন ছাত্রছাত্রী হকি খেলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সরকার যদি এই উদ্যোগে আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব।’ এলাকার বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ এবিষয়ে বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব যাতে ওই স্কুলকে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হকির জন্য অনুদান দেওয়া যায়।’
কয়েক বছর আগে স্কুল স্তরে হকির প্রশিক্ষণ শুরু করেছিল বাংলা-বিহার সীমানাবর্তী হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের কুশিদা হাইস্কুল। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই কৃতিত্বে খুশি ক্রীড়া শিক্ষক হরিদাস মাহাতো। তিনি বলেন, ‘মালদা জেলার মধ্যে প্রথম কুশিদা হাইস্কুলে এভাবে পড়ুয়াদের হকি খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের স্কুলের পড়ুয়ারা ইতিপূর্বে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। সীমিত পরিকাঠামো সত্ত্বেও সঠিক অনুশীলন ও ইচ্ছাশক্তির জেরে এই এলাকার কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর এমনকি টোটোচালকের ঘরের ছেলেমেয়েরা জাতীয় স্তরের হকি খেলায় অংশগ্রহণ করছে। আমাদের কাছে এটা গর্বের বিষয়।’
