হরিশ্চন্দ্রপুর: বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে রাস্তার বেহাল দশা (Disaster)। এই পরিস্থিতিতে খাটিয়ায় করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটি ভাইরাল ছবি সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur)-১ ব্লকের ব্লকপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার জেরে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তলব করা হল বিস্তারিত রিপোর্ট। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করে রাস্তা (Highway) মাপজোকের কাজ শুরু করল ভূমি সংস্কার দপ্তর। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এই প্রশাসনিক তৎপরতায় নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন এলাকার শতাধিক পরিবার।
সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের ঠিক উল্টো দিকের পাড়ায় রাস্তা না থাকার কারণে এক রোগীকে চরম দুর্দশার মধ্যে খাটিয়ায় চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা চার চাকা গাড়ি ঢুকতে না পারার করুণ চিত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনিক মহলে।
খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিডিও ধ্রুবাশিস সামন্ত। তিনি ওই এলাকায় রাস্তার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। এরপরই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সম্পূর্ণ ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়।
দীর্ঘ ৩০ বছরের বঞ্চনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
- এলাকার অবস্থান: হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক সংলগ্ন ব্লকপাড়া। ব্লকের ঠিক বিপরীত দিকেই অবস্থিত এই পাড়ায় শতাধিক পরিবারের বসবাস।
- মূল সমস্যা: বিগত প্রায় তিন দশক ধরে এই এলাকায় কোনো পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। রাস্তার প্রায় পুরো অংশটিই ধীরে ধীরে একটি বিশাল পুকুরের গ্রাসে চলে গেছে।
- বর্তমান পদক্ষেপ: পুকুরটি ঠিক কতটা অংশ গ্রাস করেছে এবং কীভাবে নতুন রাস্তা নির্মাণ সম্ভব, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে এদিন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মীরা সরজমিনে এলাকা পরিমাপ করেন। এই রিপোর্ট দ্রুত রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পালাবদলের বাংলায় বহু মন্ত্রী ও নেতার কাছে দরবার করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বিগত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই রাস্তার দিকে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে এলাকাবাসী আশার বুক বাঁধলেও, যতক্ষণ না পর্যন্ত বাস্তবে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ পুরোপুরি স্বস্তি পেতে নারাজ তাঁরা। এখন সবার নজর প্রশাসনের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।

