সৌরভ কুমার মিশ্র,হরিশ্চন্দ্রপুর: ২০২১ সালের অভিশপ্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি। কলকাতার কুদঘাট এলাকায় সরকারি ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুরের মালিওর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তালশুর গ্রামের বেশ কয়েকজন শ্রমিকও ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে ওই গ্রামেরই ৪ জন তরতাজা তরুণের প্রাণ চলে যায়। তারমধ্যে একই পরিবারের ৩ ভাইও ছিলেন। সেই অভিশপ্ত ঘটনার শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারের লোকেরা।
এবার সেই ঘটনায় দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মৃতদের পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ সহ নতুন করে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হল আদালতের তরফ থেকে। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও আখ্যা দিয়েছে আদালত।
ঘটনার পর থেকে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে পরিবারের লোকেদের। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে আর খোঁজ নেয় নি প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা। এদিন হাইকোর্টের রায় বেরোনোর পরেই স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী সরকারি চাকরির দাবিও তুলছে পরিবারের লোকেরা।
জানা গিয়েছে, ওই শ্রমিকেরা কলকাতা পুরসভার একটি ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে কাজ করছিলেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের তিন ভাই মহম্মদ আলমগীর, জাহাঙ্গীর আলম ও সাব্বির আলম। অপর এক মৃত ব্যাক্তি লিয়াকত আলি তাঁদের প্রতিবেশী।
শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এপিডিআর-এর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে রায়দান করে রাজ্যকে এই ঘটনার তদন্তের জন্য স্টেট মনিটরিং কমিটি গঠন করা নির্দেশ দিয়েছে, যার মাধ্যমে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করতে হবে। এর পাশাপাশি ৩০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য,”মানুষকে নর্দমায় নামিয়ে পরিষ্কার করানোর ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। এ ধরনের মৃত্যু দেশের বিবেকের উপর আঘাত।”
অপরদিকে কলকাতা পুরসভা সমগ্র দায়ভার ঠিকাদারের সংস্থার উপরেই ফেলেছে। এই রায় প্রসঙ্গে তিন ছেলে হারানো পিতা তোরাব আলী বলেন, ‘সে সময় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম, তারপর কোর্টের আজ রায় হওয়াতে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুনে ভাল লাগছে। আশা করেছিলাম রাজ্য সরকার বৌমাদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। কিন্তু কোথায় কি? এখন কেউ খোঁজ নেয় না।’ যদিও এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তজমুল হোসেন বলেন,‘ওই পরিবারগুলির পাশে আমি সবসময় রয়েছি। কোর্টের নির্দেশে ওরা আরও ক্ষতিপূরণ পাবে জেনে ভালো লাগছে।’
