হরিশ্চন্দ্রপুর: হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) সদর এলাকা থেকে বারদুয়ারিগামী রাজ্য সড়কের ওপর একটি কালভার্টে ফাটল তৈরি হয়েছে। সেই ফাটলটি বর্তমানে গর্তে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনও মুহূর্তে ওই গর্তের মধ্যে গাড়ির চাকা বসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তাটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের এদিকে কোনও নজর নেই।
হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অজয় পাসোয়ান এবিষয়ে বলেন, ‘আজকে আমি এই সমস্যার কথাটি জেনেছি। অবিলম্বে সমস্যার কথাটি স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে পূর্ত দপ্তরকে জানাব। আশা করছি দ্রুত ওই গর্তটি মেরামত করে দেওয়া হবে।’ এই প্রসঙ্গে চাঁচল মহকুমা পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই রাজ্য সড়কের কালভার্টের ওপর সৃষ্টি হওয়া গর্তটি দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হবে।
কয়েক মাস আগেও এই রাজ্য সড়কের ঠিক একই জায়গায় কালভার্টে ফাটল তৈরি হয়েছিল এবং সেখান থেকে বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। সেই সময় এই বিষয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেছিলেন। তড়িঘড়ি রাস্তার মাঝে তৈরি হওয়া ওই গর্তটি মেরামত করে দেওয়া হলেও ফের একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মাখনা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রখ্যাত বারদুয়ারি এলাকায় যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে ভারী ভারী যানবাহন চলাচল করে। যে কোনও দিন ওই গর্তের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। কালভার্টের ওপর তৈরি হওয়া গর্তটি শীঘ্র মেরামত না করা হলে ধীরে ধীরে গর্তের আকার আরও বাড়বে। তখন ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল একপ্রকার দুষ্কর হয়ে পড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দাস বলেন, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরের এই বারদুয়ারি মোড় অত্যন্ত জনবহুল এবং ব্যস্ততম এলাকা। ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় এই রাস্তার উপর দিয়ে সারাদিনে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। এমনকি রাতেরবেলা অন্য রাজ্যের পণ্যবাহী লরি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। সম্প্রতি এই মোড়ে থাকা কালভার্টের ওপর বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফাটল থেকে এই অবস্থা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে এটি মেরামত করা প্রয়োজন।’
এলাকার এক ব্যবসায়ী দীপক দাস জানান, কয়েক মাস আগেও এখানে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তখন মেরামত করা হয়েছিল। এত তাড়াতাড়ি কীভাবে ফের একই জায়গায় ফাটল তৈরি হল সেই প্রশ্ন করেন তিনি। আগেরবার মেরামতের সময় কাজের মান কেমন ছিল সেই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
