Harishchandrapur | ঐতিহাসিক চিকিৎসায় অবদান স্বপ্নেন্দুর, ঘরের ছেলের সাফল্যে গর্বিত হরিশ্চন্দ্রপুর

Harishchandrapur | ঐতিহাসিক চিকিৎসায় অবদান স্বপ্নেন্দুর, ঘরের ছেলের সাফল্যে গর্বিত হরিশ্চন্দ্রপুর

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: সম্প্রতি ফুসফুসের চিকিৎসায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বাংলার প্রথম কোনও সরকারি হাসপাতালে ‘হোল লাং ল্যাভেজ’ চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন এক রোগী। এই জটিল চিকিৎসায় ১২ জন চিকিৎসকের দলে ছিলেন মালদা হরিশ্চন্দ্রপুরের ভূমিপুত্র স্বপ্নেন্দু মিশ্র। তিনি বর্তমানে এনআরএস হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে কর্মরত। নজিরবিহীন চিকিৎসায় স্বপ্নেন্দুর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় খুশি হরিশ্চন্দ্রপুরবাসী।

স্বপ্নেন্দুর বাড়ি হরিশচন্দ্রপুর সদরে। তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর বালুরঘাটের একটি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য কলকাতার ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজে সুযোগ পান। স্বপ্নেন্দুর সাফল্যে খুশি তাঁর বাল্যবন্ধু চন্দ্রশেখর সাহা। তিনি বলেন, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরবাসী হিসেবে আমরা ভীষণ গর্বিত। ওর চিকিৎসায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন সময় উপকৃত হয়েছে।’ হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র রায় বলেন, ‘চিকিৎসক হিসেবে স্বপ্নেন্দু দারুণ। বিরল চিকিৎসায় ও অংশীদার হয়েছে জেনে ভালো লাগছে।’

মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। একাধিক চিকিৎসকের ওষুধ খেয়েও তিনি কোনওভাবে সুস্থ হচ্ছিলেন না। শেষমেশ তিনি চিকিৎসার জন্য নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে ব্রঙ্কোস্কোপি ও বায়োপসির পর রোগ ধরা পড়ে। জানা যায়, ওই ব্যক্তি এক জটিল রোগে আক্রান্ত, যার নাম ‘পালমোনারি অ্যালভিওলাস প্রোটিনসিস’। ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে একজনের রোগটি হয়। রোগটি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ে সাদা প্রোটিনযুক্ত পদার্থ জমে যায়। অ্যালভিওলাই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

যে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে ওই রোগের চিকিৎসায় খরচ প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। সেখানে এনআরএস-এ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন আক্রান্ত ব্যক্তি। স্বপ্নেন্দু জানিয়েছেন, ‘হোল লাং ল্যাভেজ’ পদ্ধতি অত্যন্ত দুর্বোধ্য। মুখ দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে দুটো ফুসফুসকে আলাদা আলাদা করে পরিষ্কার করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় ১৫-২০ লিটার স্যালাইন দিয়ে ওই রোগীর ফুসফুস শোধন করা হয়। সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা।

এনআরএস-এর পালমোনারি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জয়দীপ দেবের নেতৃত্বে স্বপ্নেন্দু ছাড়াও চিকিৎসকদের ওই দলে ছিলেন পিকে জানা, সৌরীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকান্ত কোদালি, অনুপম পাত্র, সুমন্ত ঝা, প্রিয়াংকা রায়, অদিতি দাস ঘরা প্রমুখ। স্বপ্নেন্দু বলেন, ‘বর্তমানে রোগী সুস্থ রয়েছেন। বিনামূল্যেই পুরো চিকিৎসা হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *