হরিশ্চন্দ্রপুর: হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) ২ নম্বর ব্লকের মশালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেরা বিবির (৮০) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমেছে মালদায় (Malda)। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং জীবনে বহুবার ভোট দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধা মানসিক অবসাদ ও আতঙ্কে ভুগছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুনানির নোটিশ (SIR) আসার পর থেকে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সাবেরা বিবি। গত পরশু প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য ছেলের সঙ্গে বাইকে চড়ে ব্লক অফিসে যাওয়ার সময় চলন্ত বাইক থেকে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে চাঁচল ও পরে মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার ছেলে এনামুল হকের অভিযোগ, “মায়ের আক্ষেপ ছিল এতবার ভোট দেওয়ার পরও কেন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠল। এই এসআইআর-এর কারণেই আমার মায়ের ব্রেন স্ট্রোক ও মৃত্যু হয়েছে।”
খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে ছুটে যান রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক তজমুল হোসেন। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। তজমুল বলেন, “এটি অত্যন্ত অমানবিক। সারা রাজ্যে এসআইআর-এর কারণে মৃত্যু মিছিল চলছে। বিজেপি চক্রান্ত করে সাধারণ মানুষকে মারছে।” পাল্টা জবাবে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক কিষাণ কেডিয়া বলেন, “তৃণমূল যে কোনও স্বাভাবিক মৃত্যুকে এসআইআর-এর কাঁধে চাপিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে। অসুস্থ হয়ে বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে এসআইআর-এর সম্পর্ক নেই।”
উল্লেখ্য, এর আগেও হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা ও বিষপানের মতো অভিযোগ উঠেছিল। ২০০২-এর তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে নোটিশ পাঠানো হলো, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
