Harishchandrapur | অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দেওয়া নিয়ে বচসা! শিশুর মাকে ‘বেধড়ক মারধর’ কর্মীর, হরিশ্চন্দ্রপুরে তীব্র উত্তেজনা

Harishchandrapur | অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দেওয়া নিয়ে বচসা! শিশুর মাকে ‘বেধড়ক মারধর’ কর্মীর, হরিশ্চন্দ্রপুরে তীব্র উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


হরিশ্চন্দ্রপুর: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশু ও মায়েদের পুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট ডিম দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে (Harishchandrapur)। এক শিশুর মাকে বেধড়ক মারধর ও মানসিক নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল খোদ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার রাঙ্গাইপুর পশ্চিমপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় অভিযুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঙ্গাইপুর গ্রামের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী জিন্নাতুন নেসা। এদিন সকালে সেখানে সন্তানদের প্রাপ্য ডিম নিতে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আয়েশা খাতুন। তাঁর দাবি, ওই কেন্দ্রে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অর্ধেক এবং বাকি তিন দিন গোটা ডিম দেওয়ার কথা। আয়েশা বিবির অভিযোগ, তিনি ডিম চাইতে গেলে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী জিন্নাতুন নেসা তা দিতে অস্বীকার করেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করতেই ওই কর্মী এবং তাঁর স্বামী মুখলেসুর রহমান মিলে আয়েশা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন (ICDS egg distribution subject)

নিগৃহীতা মা আয়েশা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, “আমার প্রাপ্য ডিম চাইতে গেলেই আমাকে মারধর করা হয়। এই সেন্টারটি নিয়মিত খোলে না। এখানে শিশুদের পোকা ধরা চাল এবং পচা সবজি দিয়ে রান্না করা নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। এর আগে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।” একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও।

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী জিন্নাতুন নেসা। তাঁর পাল্টা দাবি, “আয়েশা খাতুন আজ কেন্দ্রে এসে গত দু’দিনের ডিমও একসঙ্গে দাবি করছিলেন, যা দেওয়া নিয়মসংগত নয়। আমি নিয়ম মেনে তা দিতে অস্বীকার করায় উনি জোর খাটানোর চেষ্টা করেন এবং আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেন।” তিনি ইতিমধ্যেই বিষয়টি উচ্চ দপ্তরে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এর মাঝেই, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দাবি, এলাকার এক তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীর সঙ্গে ওই কর্মীর বিরোধের জেরে ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রে প্রায়ই গোলমাল পাকানো হচ্ছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও শানু বক্সী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রের কর্মী দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক (ICDS) ইতিমধ্যেই ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন। পাশাপাশি, বিতর্ক এড়াতে ওই আধিকারিক হোয়াটস্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে কেন্দ্রের সমস্ত কর্মীদের সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে বারণ করে এক নির্দেশিকা জারি করেছেন। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *