Harirampur | কী পড়ল, উল্কা না অন্য কিছু…, হরিরামপুরে উদ্ধার পাথর জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা

Harirampur | কী পড়ল, উল্কা না অন্য কিছু…, হরিরামপুরে উদ্ধার পাথর জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সৌরভ রায়, হরিরামপুর: আকাশে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলে এসেছিল আলোর একটি বল। সবে তখন সন্ধে সাতটা। এলাকার একটি ব্রিজে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন তরুণ। পাশের ফাঁকা জমি হঠাৎ আলোময় হয়ে ওঠে। সঙ্গে বিকট আওয়াজ। ভয়ে এক মূহূর্ত আর সেখানে কেউ দাঁড়াননি। বাড়িমুখো হন সকলেই। বৃহস্পতিবার রাতে হরিরামপুর (Harirampur) ব্লকের গোকর্ণ পঞ্চায়েতের লহুচর গ্রামের অদূরে এমন ঘটনা হল।

শুক্রবার সকালে ওই তরুণদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা এভাবে দিচ্ছিলেন গোকর্ণ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মুজিবর রহমান। উপপ্রধান বললেন, ‘রাতে বাড়িতে ফিরে অনেকেই আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেভাবে কেউ জানতে পারেনি। এদিন সকালে খবর পেয়ে অনেকেই পাহিন্দ্রা ভাঙা ব্রিজের কাছে যান। কী ঘটেছিল তা দেখার জন্য।’

সেখানে যেতেই দেখা যায়, একটি পাথরখণ্ডের মতো কিছু একটা পড়ে রয়েছে। হরিরামপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সেটি নিয়ে থানায় যায়। সেখানে ছিলেন সাব ইনস্পেকটর বিমল বিশ্বাস। হরিরামপুর থানার আইসি অভিষেক তালুকদার জানিয়েছেন, সবুজ-কালচে পাথরের মতন খানিকটা পোড়া পাথরখণ্ডই মনে হয়েছে। তবে পাথর কি না তা বলতে পারব না। সেটিকে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এক কেজি ৬৫০ গ্রাম ওজনের ওই বস্তুটিকে স্থানীয় মানুষজন তারাখসা বলছেন। বস্তুটির দৈর্ঘ্য ৩.৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৪.৫ ইঞ্চি।

আবহাওয়া বিভাগের অধীন কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত পজিশনাল অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল সেন্টারের প্রধান দেবপ্রিয় রায় জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আকাশে আগুনের গোলা, কোথাও মাটিতে পড়ে থাকা পাথরের অংশ দেখে প্রাথমিক অনুমান, উল্কা হতেই পারে। তবে সরকারিভাবে কোনও ছবি তাঁদের কাছে আসেনি। কোনও প্রশাসন থেকেও এই বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানায়নি। তবে ছবির বিশ্লেষণ করে এবং পাথরের কেমিক্যাল পরীক্ষা না করে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায় না। উল্কাপাতেরও কোনও পূর্বাভাস তাঁরা দেন না। তবে বড় আকারের উল্কা মাটিতে পড়ে।

এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সম্পাদক অনিমেষ লাহিড়ির বক্তব্য, ‘উল্কাপিণ্ড আসলে মহাকাশের ধূলিকণা বা পাথরের টুকরো। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পরে বায়ুর ঘর্ষণ ও প্রচণ্ড গতিবেগের কারণে জ্বলে ওঠে ও বেশিরভাগটাই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আর যে অংশটুকু পোড়ে না তা পৃথিবীপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে, সেটাই উল্কাপিণ্ড।’ তিনি আরও বললেন, ‘উল্কাপিণ্ড মূলত লোহা, নিকেল ও সিলিকেট খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত সৌরজগতের প্রাচীনতম বস্তুগুলোর মধ্যে একটি।’

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য, ‘জেলা প্রশাসন যদি মনে করে তাহলে ওই প্রস্তরখণ্ডটিকে ইসরোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *