Haldibari | সংরক্ষণের অভাব, জীর্ণ রাজ আমলের হাসপাতাল

Haldibari | সংরক্ষণের অভাব, জীর্ণ রাজ আমলের হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: হলদিবাড়ি (Haldibari) শহরের প্রাচীনতম ভবনগুলির মধ্যে পুরাতন হাসপাতাল ভবন অন্যতম। সাত নম্বর ওয়ার্ডে বাবুপাড়ার এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। একই দশা ওই চত্বরে থাকা চিকিৎসকদের আবাসনের। সেই আবাসনের দরজা, জানলা, ইট, চালার টিন সবই চুরি হতে শুরু করেছে। রাজার স্মৃতিবিজড়িত এইসব সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবিতে সরব হয়েছেন হলদিবাড়ি শহরের বাসিন্দাদের একাংশ।

তাঁদের অভিযোগ, এখনই ওই দুটি ভবনের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময় ভবন দুটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। স্মৃতির অন্তরালে চলে যাবে রাজার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস। যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দুই প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। একইসঙ্গে প্রাচীন ভবন দুটির হেরিটেজ স্বীকৃতির দাবিও তোলেন তাঁরা।

কোচবিহারের রাজ আমলে ১৮৮৫ সালের জুন মাসে হলদিবাড়িতে এই দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি হয়। তবে এখন শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হাসপাতালের পাকা ভবনটি নির্মিত হয় ১৯০৪ সালে। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার মেলার মাঠ এলাকায় অবস্থিত নতুন ভবনে হাসপাতালটি স্থানান্তর করে। সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা অমিত রক্ষিতের কথায়, তখন থেকেই পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত বলে আমরা জানি। অথচ ভবনটি দেশের স্বাধীনতার সাক্ষী। সেইসঙ্গে দেশভাগের সাক্ষীও বটে। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বহু মানুষ এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেছেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের দুরবস্থায় ব্যথিত শহরের নাগরিকরা।

সেখানে গেলে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রায় ভবনের চারদিকে আবর্জনা ও আগাছায় ছেয়ে গিয়েছে। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। দেওয়াল ধসে গিয়েছে। বেহাত হচ্ছে ভবন দুটির ইট, কাঠ, টিন সহ বিভিন্ন উপকরণ। সুমন সরকার নামে স্থানীয় এক তরুণের মতে, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শীঘ্রই বিলুপ্ত হবে হলদিবাড়ির শতবর্ষ প্রাচীন ইতিহাস। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও কাজ হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র রায়।

এই ব্যাপারে হলদিবাড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান শংকরকুমার দাস জানিয়েছেন, জেলার হেরিটেজ কমিটির তালিকায় প্রাচীন ওই ভবনটি রয়েছে। তবে আজও সেটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *