উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে ভোটার তালিকা তৈরি এবং নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে নামল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (India bloc)। বিশেষ করে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার সময় বৈধ নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর সামনে আসায় বিরোধীদের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে আগামী ৩০ অক্টোবর একটি প্রতীকী ‘জনতার ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া’ পালনের কথা ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির।
ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের মতো তাবড় বিরোধী নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, রাজধানীর বুকে একটি প্রতীকী সংসদ ভবন তৈরি করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে। সেখানে বিরোধী জোটের সাংসদ ও বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। ওই মঞ্চ থেকেই জনমতকে সামনে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে।
শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালের ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন’-কে আইনি এবং রাজনৈতিক উভয় ফ্রন্টেই চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। ওই আইনের ১৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কমিশনাররা পদে থাকাকালীন কিংবা অবসর নেওয়ার পরেও তাঁদের নেওয়া কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না। কমিশনারদের পাওয়া এই বিশেষ আইনি সুরক্ষাকবচ সম্পূর্ণভাবে বাতিল অথবা সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই প্রতীকী বিচারসভা ও আন্দোলনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসক দল বিজেপি। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এই কর্মসূচিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের ভরাডুবি মেনে নিতে না পেরে ইন্ডিয়া জোট এবং রাহুল গান্ধী সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন।

