উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইন্দোরের পর গুজরাটের (Gujarat) গান্ধিনগরে পানীয় জলে ‘বিষ’! ইতিমধ্যেই দূষিত জল খেয়ে (Contaminated water) ১০০ জনেরও বেশি মানুষের টাইফয়েডে (Typhoid) আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত গান্ধিনগর। ইতিমধ্যেই এনিয়ে গান্ধিনগরের জেলা শাসকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে শিশু সহ ১০৪ জন রোগী বর্তমানে গান্ধিনগর সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সিভিল হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২২ জন চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের পরিস্থিতি ক্রমাগত মূল্যায়ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সাংঘভির কথায়, ‘বর্তমানে ১০৪টি সন্দেহজনক ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। প্রশাসন ক্রমাগত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। রোগী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য উন্নত সুবিধা প্রদানের প্রচেষ্টা চলছে।’
বিগত তিনদিনে বৃদ্ধি পেয়েছে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, পজিটিভ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বেশিরভাগ রোগীকে শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মিতা পারিখ বলেন, ‘ভর্তি সব রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। তবে আক্রান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, পানীয় জল পানের জন্য নিরাপদ নয়। গান্ধিনগর পুর কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ রোগের উৎস শনাক্ত করার জন্য বাড়িবাড়ি গিয়ে সমীক্ষা শুরু করেছে। বাসিন্দাদের ফুটিয়ে জল পান করতে এবং বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের জন্য ক্লোরিন ট্যাবলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকা দূষিত জল পান করে কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কমপক্ষে ২০০ জন। এরই মাঝে গান্ধিনগরেও একই ধরনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
