নয়াদিল্লি: ক্রিকেট বিশ্বের প্রয়োজন শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আর ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে হলে টেস্টে সাফল্য জরুরি। অতএব, দেশের জার্সিতে পাওয়া সুযোগ দুই হাত ভরে কাজে লাগাও। সিরিজ শেষে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের প্রতি এমনই আবেগঘন বার্তা গৌতম গম্ভীরের। প্রতিপক্ষ কোচ ড্যারেন স্যামির আমন্ত্রণে জসপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে ক্যারিবিয়ান সাজঘরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
বেশ কিছুক্ষণ কাটানোর ফাঁকে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মাঠ এবং মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে। একইসঙ্গে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সোনালি অতীত ফেরানোর আবেদন। গম্ভীরের কথায়, ক্রিকেট বিশ্বের প্রয়োজন শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
অবশ্য ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাকে দরকার আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর ঝুলিয়ে রাখলেন ভারতীয় দলের হেডকোচ। গম্ভীরের যুক্তি, ‘৫০ ওভারের বিশ্বকাপ এখনও প্রায় আড়াই বছর বাকি। ওদের উচিত তাই বর্তমানে ফোকাস রাখা। দুইজনেই দক্ষ খেলোয়াড়। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরবে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ওদের অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আশবাদী, সফল হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলগতভাবে সাফল্য পাওয়া।’
অধিনায়ক শুভমান গিলকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। টেস্টের পর ওডিআই দলের দায়িত্ব। তরুণ শুভমানে আস্থা রেখে গম্ভীর বলেছেন, ‘অসম্ভব পরিশ্রম করছে। যেভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ করছে, প্রশংসা প্রাপ্য। কোচ হিসেবে আমি শুধু দিশা দেখাতে পারি। কী কী করণীয় তা বুঝিয়ে দিতে পারি। কিন্তু মাঠে নেমে বাস্তবায়নের দায়িত্ব অধিনায়কের কাঁধে। যা মোটেই সহজ নয়।’
অধিনায়ক হিসেবে শুভমানের প্রথম সফর ইংল্যান্ডে। কঠিন চ্যালেঞ্জে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। করেন ৭৫৪ রান। এরমধ্যে, কেরিয়ার সেরা ২৬৯। গম্ভীর বলেছেন, ‘নিজেকে এবং দলকে মুনশিয়ানার সঙ্গে সামলেছে। একইভাবে দলও চ্যালেঞ্জের মুখে দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। অধিনায়ক-দলের জন্য যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃতিত্বটা শুভমানের, গোটা দলের।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমানে তৃতীয় স্থানে ভারত। ফাইনালের টিকিট পেতে ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীর বলেছেন, ‘২০২৭ সালে ডব্লিউটিসি ফাইনাল। লম্বা সময় বাকি। অনেকটা পথ যেতে হবে। তাই ফাইনাল নিয়ে না ভেবে বর্তমানে থাকতে চাই। ফোকাস আসন্ন সিরিজে। সামনে ব্যস্ত সূচি। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষত চোখ থাকবে হোম সিরিজে।’
বুধবারই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে উড়ে যাবেন। যে সফরে ভারতীয় দলে থাকা হর্ষিত রানাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত সহ প্রাক্তনদের অনেকেরই দাবি, পারফরমেন্স নয়, গম্ভীরের পছন্দের ক্রিকেটার হওয়ার সুবাদে দলে হর্ষিত। জবাবে গম্ভীরের তোপ, ‘যেভাবে ২৩ বছরের একটা ছেলেকে (হর্ষিত) আক্রমণ করা হচ্ছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের স্বার্থে কাউকে এভাবে আক্রমণ করা অনুচিত।’
এখানেই থেমে থাকেননি গম্ভীর। হর্ষিতের পাশে দাঁড়িয়ে আরও বলেছেন, ‘ওর বাবা প্রাক্তন চেয়ারম্যান বা প্রাক্তন ক্রিকেটার নয়, কিংবা এনআরআই। যতটুকু ক্রিকেট খেলেছে, খেলে যাচ্ছে, তা নিজের দক্ষতার জোরেই। দল নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক, কোচের। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বছর তেইশের ছেলেকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। যাঁরা এসব করছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত, আগামীদিনে তাঁদের ছেলেকেও কেউ এভাবে নিশানা করতে পারে।’ হর্ষিত-ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডও গম্ভীরের পাশে। সহ সভাপতি রাজীব শুক্লাও এদিন সমালোচকদের একহাত নিয়েছেন।
