উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কার করার সময় আমরা সাধারণত পুরনো জল ফেলে দিই। বাসি আর গন্ধযুক্ত এই জল আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও, শখের বাগানিদের কাছে এটি আসলে একটি অমূল্য সম্পদ। কোনো রাসায়নিক সার ছাড়াই গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে এই জলের ভূমিকা অপরিসীম।
কেন এই জল উপকারী? মাছ রাখার ট্যাঙ্কের জলে মূলত মাছের বর্জ্য, বাড়তি খাবারের অবশিষ্টাংশ এবং প্রচুর উপকারী জীবাণু মিশে থাকে। এই উপাদানগুলি গাছের গোড়ায় পৌঁছালে গাছ মজবুত হয় এবং পাতায় সতেজ ভাব ফিরে আসে।
-
নাইট্রোজেনের উৎস: মাছের বর্জ্য থেকে তৈরি হওয়া অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইটে এবং পরে নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়। এই নাইট্রেট গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রধান খাদ্য।
-
প্রাকৃতিক চক্র: যখন এই জল মাটিতে মেশানো হয়, তখন মাটির জীবাণু এবং গাছের শিকড় সহজেই এই প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে। এটি গাছের জন্য সম্পূর্ণ জৈব সারের কাজ করে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম: অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কারের সময় পুরনো জলটি আলাদা পাত্রে জমিয়ে রাখুন। এই জল সরাসরি গাছের গোড়ায় দিন। মনে রাখবেন, পাতার চেয়ে মাটির গোড়ায় এই জল দিলে শিকড় বেশি পুষ্টি পায়। তবে এটি নিয়মিত না দিয়ে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা ভালো।
কোন গাছে দেবেন, কোনটিতে নয়: পাতাবাহার, শাকসবজি এবং ভেষজ গাছের জন্য এই জল দারুণ উপযোগী। তবে ক্যাকটাস বা সাকুলেন্টের মতো গাছ—যেগুলো শুষ্ক মাটি পছন্দ করে, সেগুলোতে এই জল না দেওয়াই শ্রেয়।
জরুরি সতর্কতা: ১. নোনা জল নয়: আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামের জল যদি নোনতা হয়, তবে তা ভুলেও গাছে দেবেন না। নুন-জল গাছের শিকড় ও মাটি নষ্ট করে দেয়। ২. ওষুধ মেশানো জল: মাছের চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি ট্যাঙ্কে কোনো রাসায়নিক বা ওষুধ মিশিয়ে থাকলে সেই জল বাগানে ব্যবহার করবেন না।
